kalerkantho


পরীক্ষা শেষে ঘরে ফিরল শিক্ষার্থীর নিথর দেহ

এস এম রানা   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পরীক্ষা শেষে ঘরে ফিরল শিক্ষার্থীর নিথর দেহ

মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম

সাতকানিয়া উপজেলার শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিতে বসেছিল মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম। পরীক্ষার শেষদিকে হঠাৎ তার বমি শুরু হয়।

দ্রুত তাকে নেওয়া হয় কেরানীহাটের একটি ক্লিনিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান চলে যায় না ফেরার দেশে।

যে ছেলেটি সকালে মায়ের দোয়া নিয়ে পরীক্ষা দিতে বের হয়েছিল, সেই ছেলেটি সন্ধ্যায় আর বাড়ি ফিরল না। ফিরেছে তার নিথর দেহ। ১৬ বছর বয়সী রায়হানের আকস্মিক মৃত্যুতে তার গ্রাম পুরো কেঁওচিয়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া। সে কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিল। তার বাবার নাম সাচি মিয়া। গত রবিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

রায়হানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রায়হানের সকালে এক দফা খারাপ লেগেছিল।

তখন তাকে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে বমি হলে তাকে পুনরায় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ’

রায়হানের সহপাঠীরা জানায়, পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে রায়হান বমি করেছিল। তখন তারা তাকে সহযোগিতা করে। আর পরীক্ষা শেষে তাকে ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেলে এক দফা বলেছিল, তার ভালো লাগছে, সুস্থবোধ করছে। কিন্তু সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা অনুভব হচ্ছে বলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রায়হান।

এসএসসি পরীক্ষার্থী রায়হানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকে ছায়া নেমে আসে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও শোকের কান্নায় ভেঙে পড়ে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় রায়হানুলের নামাজে জানাজায় দাঁড়িয়ে কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন বলেন, ‘রায়হান ছিল ভদ্র ও নম্র প্রকৃতির। পাঁচ বছর কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সে কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি। সদা হাস্যোজ্জ্বল ছাত্রটি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও শেষ করতে পারল না। ’

সোমবার জানাজা শেষে রায়হানকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। তার অকাল মৃত্যুতে কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। আগামী শনিবার বিদ্যালয়ে শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে।


মন্তব্য