kalerkantho


দক্ষিণ পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

দুই শিক্ষকের বিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

চকরিয়া প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দুই শিক্ষকের বিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

সমাবেশে চকরিয়ার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ডুলাহাজারার রিংভং দক্ষিণ পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগমকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা আযাদির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে একাট্টা হয়েছেন উপজেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষক।

গত শুক্রবার তাঁরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। পরে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং সরকারি বিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগম। কিন্তু ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়রা আযাদি সহকারী শিক্ষিকা মালেকাকে কাজে যোগদানে বার বার বাধা দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবছর ধরে দুই শিক্ষিকার মধ্যে মারামারি ও মামলাও হয়েছে। এই বিরোধ নিরসন করতে গিয়ে রোষানলের শিকার হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাফর আলম। তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোসহ অতিসমপ্রতি আদালতে একটি নালিশি অভিযোগও করেন হুমায়রা আযাদি।

হুমায়রার অভিযোগ, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম প্রভাব খাটিয়ে কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে গিয়ে আমাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতে হুমকিও দিচ্ছেন চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন।

চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি। এ কারণে দুই শিক্ষিকার মধ্যে চলমান সমস্যা নিরসন করা আমার দায়িত্ব। কিন্তু আমার দলের কিছু মৌসুমী ও সুবিধাভোগী নেতা ওই ঘটনায় রাজনীতি করছেন। তাঁরা রিংভং দক্ষিণ পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা আযাদিকে দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলাও করিয়েছেন আদালতে। ’ তিনি জানান, বিদ্যালয়টি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মালেকা বেগম চাকরিতে আছেন। কিন্তু বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হওয়ার পর হঠাৎ করে প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনের বিনিময়ে নতুন একজন শিক্ষক নিয়োগের তোড়জোড় করেন। এর পর থেকে সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগমকে তিনি বিদ্যালয়ে যেতে নানাভাবে বারণ করেন এবং বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই শিক্ষিকার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই মধ্যে দুজনের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। প্রধান শিক্ষিকা হুমায়রার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খাটতে হয় সহকারী শিক্ষিকা মালেকা বেগমকে।


মন্তব্য