kalerkantho

খাগড়াছড়িতে অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ

কচি মনে আতঙ্ক

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কচি মনে আতঙ্ক

খাগড়াছড়ি সদরের পেরাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ছাউনি। ছবি : কালের কণ্ঠ

জেলার মহালছড়ি উপজেলার মনাটেক গ্রামের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গাইন্দ্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি ১৯৪৮ সালে স্থাপিত হলেও এখনো পড়ে আছে অযত্নে-অবহেলায়।

প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সালে সরকারিভাবে ভবন নির্মিত হলেও নির্মাণকাজে ত্রুটি আর নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্ষায় ছাদ ছুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। ভূমিকম্পের সময় পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। তাই ভয়েই অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। অভিভাবকরা থাকেন উদ্বিগ্ন।

কেবল গাইন্দাছড়ি স্কুল নয়, খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন জরাজীর্ণ অবস্থা। এসব বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান।

গাইন্দ্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মহালছড়ি উপজেলা সদর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে। মনাটেক ও আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার একমাত্র অবলম্বন বিদ্যালয়টি।

১৯৯৯ সালে এলজিইডি তিনকক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করে দিলেও বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা। কখন যে ছাদ ধসে পড়ে তা নিয়েই ভয়ে থাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বর্ষাকালে ছাদ ছুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় অনেক সময় বইখাতাও ভিজে যায়। এতে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা সারাক্ষণ থাকে আতঙ্কে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো বিদ্যালয়ের ছাদ একটি বড় ত্রিপল দিয়ে ঢাকা। ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ার ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তো আছেই। তাই বড় রকমের দুর্ঘটনা এড়াতে ও পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে বিদ্যালয়টি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সংবাদকর্মী মিল্টন চাকমা বলেন, ‘বিপজ্জনক ভবনে শিশুরা পড়াশোনা করছে। বহু লেখালেখি করেও কারো সুদৃষ্টি পাচ্ছি না। ’

একই কথা বললেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুমিতা রাণী মল্লিক। তিনি এ ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্ষায় ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। ’

মহালছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ ন ম মাসুম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। ’

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, খুব সহসাই স্কুলের ভবন নির্মাণ করা দরকার। না হলে লেখাপড়ার পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানিয়েছেন, কেবল গাইন্দ্যাছড়ি বিদ্যালয় নয়, খাগড়াছড়ি জেলায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

সব কটি বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ। ইতোমধ্যে স্ব স্ব উপজেলার সর্বশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর তালিকাটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, ‘শিশুতোষ মনের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা সুনিশ্চিত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ সব প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য