kalerkantho


চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

কে হচ্ছেন প্রথম উপাচার্য?

নূপুর দেব   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কে হচ্ছেন প্রথম উপাচার্য?

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য কে হচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। উপাচার্য নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি ইতোমধ্যে তাঁদের কাজ শেষ করেছে। এই কমিটি তিনজনের নাম প্রস্তাব করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত নথি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। যেকোনো দিন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত নথি রাস্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এর পর শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ। সেই সঙ্গে অন্যান্য লোকবল নিয়োগও শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সার্চ কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সার্চ কমিটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের জন্য তিনজনের নামের তালিকা সপ্তাহ-দুয়েক আগে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেছে কি-না সেই ব্যাপারে কিছু জানি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. ইসমাইল খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সভাপতি ডা. মো. আবদুল জলিল চৌধুরীর নাম প্রস্তাব আকারে সার্চ কমিটি মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে। এর পর ওই তিনজনের নামের তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্য থেকে নাকি অন্য কেউ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সার্চ কমিটি প্রস্তাবিত উপাচার্য নিয়োগের জন্য নামের তালিকা পাঠানোর বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সালমা বেগম ও বদরুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে উপসচিব খান মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে কালের কণ্ঠকে জানান।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার বিগত নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রামে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতারা বিভক্ত। গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হয়। নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত প্যানেল পরাজিত হয়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও স্বাচিপের বিবদমান দুপক্ষ নিজেদের মানুষের নিয়োগের জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করে। পাঁচ সদস্যের এই সার্চ কমিটির সভাপতি করা হয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তত্কালীন সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাছান। কমিটির সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ওএন্ডএম) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও চিকিৎসা শিক্ষা)।

সংশিস্নষ্টরা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য নিয়োগের জন্য সম্ভাব্য কয়েকজনের নামের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ওই তালিকা থেকে সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি করা হয়। এই কমিটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের জন্য তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই তালিকা থেকে একজন হতে পারেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের জন্য কার কার নাম পাঠানো হয়েছে তা জানা যায়নি।

জানা যায়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর গত ১২ মে রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় হবে স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সর্বশেষ গত বছরের ৭ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত। এর আগে ১ জুলাই চট্টগ্রাম সফরকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অব্যবহৃত জায়গা পরিদর্শন করেন।

ওই দিন স্বাচিপের ইফতার মাহফিল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তাঁরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের জায়গায় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। এর পর ১৫ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ওই জায়গা পরিদর্শন করে ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আঁধার পাহাড়ি এলাকা ও সমতল সমন্বয়ে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে। তবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ওই এলাকায় হচ্ছে না। ফৌজদারহাট বক্ষব্যধি ও ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্স সেন্টার এলাকায় হতে যাচ্ছে তা অনেকটা নিশ্চিত।


মন্তব্য