kalerkantho


মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক সংকট

নূপুর দেব   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক সংকট

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কক্সবাজার ও রাঙামাটির পাঁচ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এনাটমি বিষয়ে প্রতিটি কলেজে কমপক্ষে একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক ও দুজন সহকারী অধ্যাপকের পদ আছে।

কিন্তু এসব পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন অধ্যাপক ও একজন সহকারী অধ্যাপক। অপর ১৮ পদ শূন্য। এছাড়া ফরেনসিক মেডিসিন বিষয়ে এমবিবিএস পর্যায়ে শিক্ষার্থী পড়ানোর জন্য এসব কলেজে প্রধান তিন পদে ২০ শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু আছেন মাত্র তিনজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ওই দুটি বিষয় নয়, অন্যান্য বিষয়েও মারাত্মক শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক মিলিয়ে ১৬০টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জন কর্মরত রয়েছেন। এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক দিয়ে চলছে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো। মৌলিক বিষয়গুলোতে শিক্ষকের চরম সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে মেডিক্যাল শিক্ষা।

জানা যায়, ওই পাঁচ মেডিক্যাল কলেজে মৌলিক বিষয়গুলোতে পড়ানোর জন্য গড়ে প্রধান তিন পদে ২০ জন করে শিক্ষক প্রয়োজন। এর মধ্যে এনাটমি বিষয়ে মাত্র দুজন, ফিজিওলজিতে পাঁচ, বায়োকেমিস্ট্রিতে ১০, প্যাথলজিতে ১১, মাইক্রোবায়োলজিতে ১১, ফার্মাকোলজিতে ছয়, কমিউনিটি মেডিসিনে আট এবং ফরেনসিক মেডিসিনে তিনজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। অপর ১০৪ পদ শূন্য।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত পাঁচ সরকারি মেডিক্যাল কলেজের মতো বেসরকারি মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কলেজেও শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো হলো চট্টগ্রামের মা ও শিশু, মেরিনসিটি, সাউদার্ন, ইন্টারন্যাশনাল ও বিজিসি ট্রাস্ট, কুমিল্লার ইস্টার্ন, সেন্ট্রাল ও ময়নামতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজেও একই অবস্থা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে আছে মোট ১৫টি। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

গতকাল সন্ধ্যায় তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিকিৎসা শিক্ষায় মৌলিক বিষয়গুলোর শিক্ষক সংকট বেশি। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষকদের প্রণোদনাসহ নতুন শিক্ষক তৈরি করা না গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অনেক বিষয়ে পড়ানোর মতো শিক্ষক থাকবে না। এ কারণে মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ’

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমবিবিএস পর্যায়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর ওপর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চিকিৎসকদের পড়ানো হয় এমবিবিএসের শিক্ষকদের। বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধীনে নতুন নতুন বিভাগ হলেও শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়নি স্নাতকোত্তরে। জোড়াতালি দিয়ে স্নাতকোত্তরে পাঠদান চলছে।

চিকিৎসাশিক্ষায় মৌলিক বিষয়গুলো হলো এনাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফরেনসিক মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি ও প্যাথলজি। এসব বিষয় মূল স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বেসিক বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন শিক্ষা পাচ্ছেন না। যে কারণে সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক, টিউটোরিয়াল ও পরীক্ষার সময় মেডিক্যাল কলেজগুলো অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। চিকিৎসাশিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কলেজগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।


মন্তব্য