kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

‘ওয়াগ্যা পোয়ে’ উৎসব

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘ওয়াগ্যা পোয়ে’ উৎসব

খাগড়াছড়ির চেঙ্গী নদীতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে বুদ্ধপূজা করেন মারমারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফানুস ওড়ানো, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন এবং রথযাত্রার মধ্য দিয়ে গত রবিবার পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াগ্যা পোয়ে’ উৎসব শুরু হয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর :

বান্দরবান : ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এবং উৎসব উদযাপন পরিষদ যৌথভাবে ‘ওয়াগ্যা পোয়ে’ উৎসবের আয়োজন করে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি রবিবার সন্ধ্যায় পুরাতন বোমাং রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে দুদিনব্যাপী উৎসব উদ্বোধন করেন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বান্দরবানের মারমা জনগোষ্ঠী ওই উৎসব উদযাপন করে। এটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৌদ্ধমূর্তিবাহী রথকে রশি দিয়ে টেনে দুটি বৌদ্ধবিহার ও শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করানো হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়ের সিদ্দিকী, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এবং বান্দরবান ক্ষুদ্রনৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট পরিচালক মং নু চিং বক্তব্য দেন।

এদিকে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিভিন্ন জনপদে যুবক-যুবতিরা রাত জেগে পিঠা তৈরি এবং মিষ্টান্ন তৈরি করে গতকাল সোমবার সকালে বৌদ্ধভিক্ষু ও প্রবীণদের উৎসর্গ করেন।

খাগড়াছড়ি : মারমা আদিবাসীদের ‘ওয়াগ্যা পোয়ে’ উদ্যাপিত হয়েছে। রবিবার সকালে বিহারে বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান, হাজার বাতি প্রজ্বালন ও ধর্মদেশনা দেওয়া হয়। বিকেলে শতবর্ষী য়ংড বৌদ্ধবিহার, পানখাইয়াপাড়া বিহার ও পালিটোল বৌদ্ধবিহার থেকে বিভিন্ন বয়সী শত শত মারমা আদিবাসী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন। এটি সন্ধ্যায় চেঙ্গী নদীতে গিয়ে বুদ্ধের উদ্দেশে নৌকা ভাসিয়ে বুদ্ধপূজার আয়োজন করা হয়। পরে প্রদীপ পূজা ও ওড়ানো হয় ফানুস। খাগড়াছড়ির মং সার্কেল চিফ সাচিংপ্রু চৌধুরী কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

বৌদ্ধভিক্ষুদের তিন মাসের ‘বর্ষাবাস’ শেষে পার্বত্য অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা ও বড়ুয়া সমপ্রদায় শনিবার দিবসটি উদ্যাপন করলেও রবিবার মারমা

আদিবাসীরা ‘ওয়াগ্যা পোয়ে’ উৎসব করেছেন। এরই মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসবও শুরু হয়েছে।

মারমারা ভোর থেকে নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের বাইরেও সামাজিক উৎসব হিসেবে পালন করে থাকেন এটি। বিশেষত, হাজার ফুল দিয়ে বুদ্ধপূজা ও সাধ্যমতো ভান্তেকে ছোয়াইং (খাবার) দেওয়া মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য।


মন্তব্য