kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ

জাতীয়করণ হয়নি ৪২ বছরেও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জাতীয়করণ হয়নি ৪২ বছরেও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ

নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল কলেজ ভবন। ইনসেটে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর সহচর আবদুল মালেক উকিল। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পরও ‘আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ’ জাতীয়করণ হয়নি। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ক্ষোভ-হতাশা রয়েছে।

নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিজ গ্রাম বাঁধেরহাটে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সভাপতি প্রয়াত আবদুল মালেক উকিল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন মালেক উকিল। বঙ্গবন্ধুর সরকারে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারও ছিলেন। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সংকটময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থেকে দলকে সুসংগঠিত করেন ওই নেতা।

১৯৭৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিজ গ্রাম বাঁধের হাটে ওই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবির মুখে তাঁর নামেই কলেজের নামকরণ হয়। ১৯৮৭ সালের ১৭ অক্টোবর মারা যান তিনি। এর পর বিভিন্ন সরকারের আমলে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কলেজটি ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হক জানান, দুই একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত কলেজে বর্তমানে নোয়াখালীর সদর ও বেগমগঞ্জ  উপজেলা ছাড়াও লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কলেজে তিনটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। গত পাঁচ বছরে গড়ে এইচএসসিতে ৭৫ ও ডিগ্রিতে ৮০ শতাংশ পাসের হার। কর্মরত আছেন ৩৯ শিক্ষক ও ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন জানান, আবদুল মালেক উকিলের নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের সময় নানা বৈষম্য ও অবহেলা শিকার হয়েছে। আশপাশের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ না থাকায় সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ লাখ জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে এই কলেজ।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘মরহুল মালেক উকিল যে দলের সভাপতি ছিলেন সেই দল এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অথচ তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিকে জাতীয়করণের কোনো উদ্যোগ নেই। এই কলেজের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন কলেজকেও জাতীয়করণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ’ অ্যাডভোকেট শিহাব জানান, শিক্ষাকে সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে সরকার সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন উপজেলায় নতুন করে ১৯৯ কলেজকে জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত করেছে। আবদুল মালেক উকিলের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানান তিনি।

এদিকে কলেজটি জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

গতকাল সোমবার জননেতা আবদুল মালেক উকিলের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরণ করে যেন কলেজটি জাতীয়করণ হয়-এটি স্থানীয় সবার দাবি।


মন্তব্য