kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গি তৎপরতায় অর্থায়ন

এবার পুলিশের নজরদারিতে এনজিও

এস এম রানা   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এবার পুলিশের নজরদারিতে এনজিও

জঙ্গি তৎপরতায় অর্থায়নের উৎস খুঁজতে এবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অর্থের উৎস ও খরচের খাত খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এনজিওগুলো কাকে কীভাবে অর্থ দেয় বা কার কাছ থেকে অনুদান নেয়-সেসব বিষয়ে চলছে অনুসন্ধান।

এর মধ্যে কিছু এনজিওকে নজরদারিতেও রাখা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপার নূরে ই আলম মিনা। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের এনজিওগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য থানার অফিসার ইনচার্জদের বলা হয়েছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট থানায় কয়টি এনজিওর কার্যক্রম আছে, তাদের কার্যক্রমের ধরন কী? এনজিওগুলো কাদের কীভাবে অর্থ দেয় কিংবা রাজনৈতিক কোনো তৎপরতা চালায় কি না-এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন পাঠাবেন। ’

তিনি জানান, এনজিওর কার্যক্রম মনিটরিং করেন জেলা প্রশাসক। চলতি মাসে এই সংক্রান্ত একটি সভাও হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় বিশদ আলোচনা হতে পারে।

কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে এমন একটি চিঠির তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (রাজনৈতিক) এনজিওদের কার্যক্রম অনুসন্ধানের বিষয়ে পুলিশ ইউনিটগুলোতে একটি চিঠি দেয়। এতে এনজিও এবং বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।  

ওই চিঠিতে এনজিওদের ১০টি কার্যক্রম বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য বলা হয়।   এর মধ্যে সংস্থার ঠিকানা যাচাই, সংস্থার কার্যক্রম, রাজনীতি কিংবা অপসংস্কৃতি যুক্ত কি না? সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচিতি আছে কি না? সংস্থার উপকারভোগীর সংখ্যা, এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া, আয়-ব্যয়ের খাত, ব্যয়ের উৎস এবং নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মৌলবাদী উগ্রপন্থি রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং জঙ্গিদের অর্থায়ন করে এমন সন্দেহে রিভাইভেল অফ ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি (আরআইএইচএস), রাবেতা আল আলাম আল ইসলামি, সোসাইটি অফ স্যোশাল রিফর্মস, কাতার চ্যারাটিবল সোসাইটি, আল মুনতাডা আল ইসলামি, ইসলামিক রিলিফ এজেন্সি, আল ফারুকান ফাউন্ডেশন,

ইন্টারন্যাশনাল রিলিফ অর্গানাইজেশন (আইআরও), কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি, মুসলিম এইড বাংলাদেশ, দার আল খায়ের, হায়েতুল লাগছা, তাওহীদ ই নূর, দাওয়াতুল কুয়েত, আল হারমাইন ইসলামিক ইনস্টিটিউট, আল ফুজায়রা এবং খায়রুল আনসার আল খাইরিয়াসহ বেশ কিছু এনজিওর কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

তবে এনজিওর কার্যক্রম অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার মো. মোখলেছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জঙ্গি অর্থায়নে কোনো এনজিও জড়িত কি না, সেটি অনুসন্ধান করা পুলিশের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। পুলিশ সেই কাজটিই করছে। ’ তিনি জানান, জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন বন্ধে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এনজিওগুলো যে উদ্দেশ্যে বিদেশি দাতা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে, সেই খাতে যদি টাকা ব্যয় করে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কোনো এনজিও যদি কৌশলে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করে তাহলেই সমস্যা। এ ধরনের তৎপরতার সঙ্গে জড়িত এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য