kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতিমা বিসর্জন

মাতামুহুরীর তীরে ব্যাপক প্রস্তুতি

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এবার চকরিয়ায় ৩৭টি ঘটপূজা ছাড়াও ৪৩ প্রতিমামণ্ডপে পূজা হচ্ছে।

ষষ্ঠী থেকে গতকাল সোমবার নবমী পর্যন্ত মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় চোখে পড়ে। বিশেষ করে চিরিঙ্গা হিন্দুপাড়ায় সর্বজনীন কেন্দ্রীয় হরিমন্দিরে সব ধর্মের মানুষের ঢল নামে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি পূজা কমিটির সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।

এদিকে আজ মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর দিন প্রতিবছরের মতো মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতু এলাকায় বসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলা। এ উপলক্ষে চকরিয়া প্রতিমা বিসর্জন কমিটি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে নদীর তীরে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে মেলা বসেছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব শেষ হতে চলেছে। গত তিনদিনে সবকটি প্রতিমা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। ’

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুল আজম বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। একইভাবে প্রতিমা বিজর্সন উপলক্ষে মাতামুহুরীর তীরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ’

চিরিঙ্গায় চকরিয়া কেন্দ্রীয় হরিমন্দির দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি মিলটন কিশোর দাশ বলেন, ‘আমাদের মণ্ডপকে সেরা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন পরিদর্শনে আসা সবাই। সপ্তমীর রাতে মণ্ডপ পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনীর ১০ আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শফিউর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। এ সময় তাঁরা প্রতিমার কারুকাজ এবং আয়োজন দেখে বিমোহিত হন। ’

পরিদর্শনকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন, ‘জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ’

চকরিয়া প্রতিমা বিসর্জন কমিটির আহ্বায়ক প্রদীপ কান্তি দাশ ও সদস্য সচিব সুনীল বিহারী নাথ বলেন, প্রতিবছরের মতো মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতু এলাকায় বিজয়া দশমীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলা বসবে। এ উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি, এবারও প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের ঢল নামবে।

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব চলছে।

বস্ত্র বিতরণ : প্রতিবছরের মতো অষ্টমীর দিনে পৌরসভার ভরামুহুরীতে কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে ২৫০ নারী-পুরুষকে বস্ত্র দিয়েছে অদ্বৈত-অচ্যুত মিশন। মন্দির প্রাঙ্গণে সংগঠনের চকরিয়ার সভাপতি প্রিয়তোষ দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিরণ্ময় ধর। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সজল চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি এম আর চৌধুরী। বক্তব্য দেন যোগেশ দাশ, বিশ্বম্ভর সুশীল, বাবলা দেবনাথ, বিশ্বজিৎ বৈষ্ণব প্রমুখ।

 

 


মন্তব্য