kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার বদলে যাচ্ছে

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার বদলে যাচ্ছে

কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড়ে ‘ডলফিন ফোয়ারা’ ভেঙে আরো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বদলে যাচ্ছে পর্যটননগরী কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার কলাতলী। আগত পর্যটকদের প্রথম দর্শন আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে সাজানো হচ্ছে নতুন করে।

এ জন্য নেওয়া হয়েছে আড়াই কোটি টাকার একটি প্রকল্প। প্রকল্পে থাকছে চার লেনের সড়ক, ফুলের বাগান, পর্যটকের বসার চেয়ার, পর্যাপ্ত ফুটপাত ও দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা। স্থাপন করা হবে ম্যুরাল।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে সৈকতমুখী পর্যটকরা কলাতলীতে এসে প্রথম দর্শনে বিস্তৃত সাগর দেখতে পান। তবে কলাতলী মোড়ের ‘ডলফিন ফোয়ারা’ থেকে সাগরপাড় পর্যন্ত অপ্রশস্থ সড়ক এবং অপরিকল্পিত স্থাপনাগুলোই ছিল পর্যটননগরীর সবচেয়ে শ্রীহীন দৃশ্য। একজন পর্যটকের কাছে প্রথম দর্শনে সড়কটির এমন অসহনীয় পরিবেশের দৃশ্য অবশ্যই নেতিবাচক। এ কারণে শহরের প্রবেশদ্বারকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার তাগিদ ওঠে।

এদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সম্প্রতি কলাতলী মোড় পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি মোড়টি আকর্ষণীয় করে তোলার ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, সমপ্রতি কলাতলী মোড়ের ডলফিন ফোয়ারা থেকে সৈকতের তীর পর্যন্ত ১৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ৪০ মিটার প্রস্থের সড়কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে। সড়কটি প্রশস্থ করতে ইতোমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে বেশ কিছু দোকানপাট। উচ্ছেদের পর সড়কটির দৃশ্য বদলে দিয়েছে শহরের প্রবেশদ্বারের চেহারা। কলাতলী সাগরপাড়ের সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো সড়ক অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কলাতলীর সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কে এতদিন ঘিঞ্জি পরিবেশ ছিল। অথচ পর্যটকদের প্রথম দর্শন হচ্ছে সড়কটি। তাই ওই সড়ককে আকর্ষণীয় করা জরুরি হয়ে পড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ’

তিনি জানান, সড়কটি চার লেন করা হবে। সড়কের মাঝখানে থাকবে ফুলের বাগান। আর দুই পাশে থাকবে পর্যটকদের হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত ফুটপাত।

কলাতলী মোড়ে জমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে ওই এলাকার মমতাজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, ‘সওজ কর্তৃপক্ষ আমার জমিতেই আমার নির্মাণ করা একটি হোটেল ভেঙে দিয়েছে। ’

তবে সওজ কর্তৃপক্ষ ওই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একজন পর্যটকের কাছে প্রথম দর্শনই আকর্ষণীয় হওয়া চাই। এ কারণে কলাতলীর মোড়কে আকর্ষণীয় করে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ’

জেলা প্রশাসক জানান, ওই সড়ক প্রশস্থকরণের পাশাপাশি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের দুই পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রশস্থ নালা। কলাতলী মোড়ের ডলফিন ফোয়ারাটি ভেঙে আরো আকর্ষণীয় করে নির্মাণ করা হবে। সেই সাথে থাকবে ম্যুরালও।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণে আসেন কমপক্ষে ১৫ লাখ পর্যটক। এসব পর্যটকের কাছে সৈকত ছাড়া বিনোদনের আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। কলাতলী মোড়ের স্থানটিতে ফুলের বাগান করে বসানো হবে পর্যটন চেয়ার। সন্ধ্যার পর পর্যটকরা সেখানেও সময় কাটাতে পারবেন।


মন্তব্য