kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাঁশখালীতে বেড়িবাঁধ সংস্কার

এক মাসের কাজ শেষ হয়নি চার মাসেও

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এক মাসের কাজ শেষ হয়নি চার মাসেও

বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়ায় বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের সংস্কার শুরু হয়নি এখনো। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে বিধ্বস্ত বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধের সংস্কারকাজ এক মাসে শেষ করার কথা থাকলেও চার মাসেও শেষ হয়নি। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা যোগসাজশ করে পুরো বিল উত্তোলনের চেষ্টা চালাচ্ছেন!

৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ওই কাজ গেল জুন মাসে শুরু হয়।

ইতোমধ্যে চার মাস গত হয়েছে। অথচ ৫৫ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। এরই মাঝে অক্টোবরের শেষ দিকে শুরু হচ্ছে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের ২৫১ কোটি টাকার কাজ।

সরেজমিন দেখা যায়, বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধের খানখানাবাদের প্রেমাশিয়া অংশে এখনো কাজই শুরু করতে পারেননি ঠিকাদার। কদমরসুল এলাকায় গত চার মাস ধরে নির্মিত বাঁধ জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। বাঁশ ডিঙিয়ে পানি ঢুকে বাঁধে আঘাত হানছে। কিছু স্থানে জোয়ারে উপড়ে গেছে বালুর বস্তাও।

কদমরসুল এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদারকে আমরা কখনো দেখিনি। এমরান নামে একজন উপ-ঠিকাদারের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সংস্কারকাজ তদারকি করছেন। ’ 

ছনুয়ায় খুদুকখালী লঞ্চঘাট থেকে আট নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সীমানায় মোহাজের কলোনি পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে বেড়িবাঁধে কাজ করা হচ্ছে। একটি স্কেভেটর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁধের নিচ থেকে মাটি তোলার কারণে নির্মিত বাঁধটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কাদামাটি। সেখানে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে না জানিয়ে বাঁধ তদারকিতে থাকা কয়েকজন শ্রমিক জানান, বাঁধে মাটির কাজ শেষ হলেই বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধটি সুরক্ষা করা হবে। লঞ্চঘাটের নেভি গেটে দক্ষিণ পাশের বাঁধটির কাজ মোটামুটি ভালো হলেও খুদুকখালী অংশের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

আশরাফুল কাদের নামে এক ব্যক্তিকে প্রকল্পের কাজের তদারকি করতে দেখা যায়। জানতে চাইলে আশরাফুল বলেন, ‘প্রতিদিন ১০০ শ্রমিক বাঁধের কাজ করছেন। চার মাস আগে কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে শমসের ও বহদ্দারহাটের ফারুক বাঁধ নির্মাণকাজের উপ-ঠিকাদার। ’

ছনুয়ার কাজের উপ-ঠিকাদার মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘কাজ চলমান আছে। বাঁধে যে নরম মাটি দেওয়া হচ্ছে তা ঘণ্টা খানেকের মধ্যে শক্ত হয়ে যায়। আমরা আটজনের একটি দল কাজটি করছি। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কাজ নেই। ঢাকা থেকে টাস্কফোর্সের যে দল আসবে, তাঁরাই কাজের মান নিয়ন্ত্রণ করবেন। তবে এখনো কাজের কোনো টাকা পাইনি। ’

খানখানাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক আবু বলেন, ‘সংস্কারকাজ যেমন-তেমন হয়েছে। বেড়িবাঁধ যাতে স্থায়ীভাবে হয় তা তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুনেছি, সংস্কারকাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকা দরকার। ’

বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবিবুল হাসান বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়েছিলাম। বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায়ও তুলেছি। ওই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে ছিলেন। তবে এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। ’

বাঁশখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী ধীমান কৃষ্ণ চৌধুরী বলেন, ‘বাঁশখালীর ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বেড়িবাঁধের সংস্কারকাজ শেষের পথে। চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে ২৫১ কোটি টাকার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজও শুরু হবে। ঢাকা থেকে টাস্কফোর্সের তদন্ত দল এসে প্রতিবেদন দিলে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হবে। এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই টাস্কফোর্স তদন্ত করে কাজের পরিমাপ ঠিক করবে। ’

বাঁশখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ যতটুকু হয়েছে সেই পরিমাণ বিল দেওয়া হবে। ’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তফা অ্যান্ড সন্সের উপ-ঠিকাদার মো. এমরান বলেন, ‘আমার কাজ ছিল বর্ষা ঠেকানো। আমি শতভাগ কাজ করেছি। তাই এবারের বর্ষায় উপকূলবাসীর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে কাজ করার পরও জোয়ার-ভাটার টানে বাঁধ ভেঙে গেছে। তাতে আমার করার কিছু নেই। ’

প্রেমাশিয়া এলাকায় কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। শতভাগ কীভাবে কাজ করলেন?-প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মতো করে আমি শতভাগ কাজ শেষ করেছি। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে তা প্রমাণ পাবেন। ’


মন্তব্য