kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্গোৎসব

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ালেই কঠোর ব্যবস্থা

এস এম রানা   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ালেই কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে আসন্ন দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালালেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তার বিষয়ে অবহিত করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতাও কামনা করেছে। আগামী ৭ থেকে ১১ অক্টোবর জেলা ও নগরীর এক হাজার ৭০০ মণ্ডপে দুর্গোৎসব হবে।

নগর পুলিশ ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন, মেটাল ডিটেক্টর ও ফায়ার ফাইটিং যন্ত্র এবং জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার জন্য পূজা উদ্যাপন পরিষদকে অনুরোধ করেছে। এছাড়া মণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের পরিচয়পত্র রাখা বা বিশেষ রঙের গেঞ্জির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়। আর প্রতিমা বিসর্জনের দিন ১১ অক্টোবর নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও কালুরঘাট এলাকায় কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পূজার নিরাপত্তার বিষয়ে নগর পুলিশ ১৯ সেপ্টেম্বর এবং জেলা পুলিশ গতকাল সোমবার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে পূজার নিরাপত্তা বিষয়ে সার্বিক আলোচনা হয়।

নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহারের সভাপতিত্বে সভায় জানানো হয়, নগরীতে এ বছর ২৩১ মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে ১০৫ মণ্ডপকে ‘সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ’ চিহ্নিত করা হয়। বাকিগুলো ‘সাধারণ’ হিসেবে রাখা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার প্রতিটি বড় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মেটাল ডিটেক্টর ও ফায়ার ফাইটিং যন্ত্র এবং জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার জন্য বৈঠকে পূজা কমিটির নেতাদের অনুরোধ করেন। এছাড়া মুসলমানদের নামাজের আজানের সময় মণ্ডপে পূজাকেন্দ্রিক ‘সাউন্ড সিস্টেম’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নগরীর ১৬ থানার নিয়মিত পুলিশ ছাড়াও বাড়তি দেড় হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করবেন আনসার সদস্যরা। ’

ইকবাল বাহার জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপকেন্দ্রিক মাদক, ছিনতাই এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হবে। সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরাও সক্রিয় থাকবেন। আর প্রতিমা বিসর্জনের সময়ও সমুদ্রসৈকত ও কালুরঘাট এলাকাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।

জেলা পুলিশের নিরাপত্তার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. রেজাউল মাসুদ কালের কণ্ঠকে জানান, চট্টগ্রাম জেলায় এবার এক হাজার ৪৬৯ মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। ১৬টি থানা এলাকার এসব মণ্ডপের মধ্যে ৩০৪টি মণ্ডপকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’, ৪৬৫টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৭০০টিকে ‘সাধারণ’ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২০টি মোবাইল টিম, ৩৭টি চেকপোস্ট প্রস্তুত থাকছে। প্রতিটি ‘অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ’ মণ্ডপের জন্য আটজন, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মণ্ডপে ছয়জন এবং ‘সাধারণ’ মণ্ডপে চারজন করে আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবেন। ‘অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ’ মণ্ডপগুলোতে পুলিশ সদস্যরাও থাকতে পারেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেলার ১৬ থানার পুলিশ ছাড়াও বাড়তি প্রায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে পার্বত্য তিন জেলা থেকে ৪০০, শিল্পপুলিশ থেকে ২০০ এবং আরআরএফ থেকে ১০০ সদস্য আনা হচ্ছে। ’

গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে রেজাউল মাসুদ জানান, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা পুলিশ সুপারের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তাঁরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এর আলোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যদি কেউ উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য