kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসাসেবা

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থায়ী ঠিকানা হয়নি ৮৬ বছরেও। কয়েক দফা স্থান পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে একটি সরকারি পরিত্যক্ত জীর্ণশীর্ণ ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা।

ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চার পদের মধ্যে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) কর্মরত রয়েছেন। ফলে রোগী দেখাসহ সব কাজ একা করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বেহাল অবস্থা। পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই, দরজা জানালা ভাঙা। দেয়ালে শেওলা, ছাদের পলেস্তরা খসে রড বেরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় একটি পরিত্যক্ত ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার।

এলাকাবাসীর মতে, এটি একটি ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। গত ৮৬ বছরেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তার আপন ঠিকানা খুঁজে পায়নি। কয়েক বছর একটি ভবনে অবস্থানের পর আবার স্থানান্তর হতে হয়। এভাবেই চলছে। তবে যতবারই স্থান পরিবর্তন হয়েছে, প্রতিবারই পরিত্যক্ত ভবনেই ঠাঁই হয়েছে। এ

উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র কখনো নতুন ভবন বা স্থায়ী ঠিকানা পাবে কি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ কেউ বলতে পারছে না।

মতিগঞ্জ বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবু আহম্মদ এবং পাশের সৈয়দপুর গ্রামের আবুল কাশেম জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র আশ্রয়স্থল। অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারের লোকজন উপজেলা সদর, জেলা সদর বা বেসরকারি হাসপাতালসহ অন্যত্র চলে যান।

উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মো. আবুল হাসান জানান, মতিগঞ্জ

উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমও), একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো), একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এমএলএসএসসহ চারটি পদ রয়েছে।

পাঁচ মাস আগে একমাত্র চিকিৎসা কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। ফার্মসিস্ট এবং এমএলএসএস পদ দুটি দীর্ঘদিন থেকে শূন্য পড়ে রয়েছে। ফলে বাইরের কাউকে ডেকে কেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা রক্ষাসহ সব কাজ একাই করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়।

তিনি জানান, মতিগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিজস্ব কোনো ভূমি নেই। কখনো কোনো ভূমি ছিল কি না তিনি জানেন না। কোনো দলিলপত্রও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যে ভবনের নিচতলায় বসে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, সেটি সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের বাসভবন ছিল। প্রায় ২০ বছর আগে ওই ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সেখানে স্বাস্থ্যসেবার কাজ চলছে। ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, পানির ব্যবস্থা নেই, শৌচাগার নেই। দরজা জানালা ভাঙাচোরা, একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে মেঝে পানি পড়ে। দেয়ালগুলিতে শেওলা বসে গেছে।

পুরনো কাগজপত্র থেকে জানা যায়, সোনাগাজীর মতিগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১৯৩১ সালে স্থাপিত হয়। তখন মতিগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে ওই সময়ের ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের দেওয়া একটি বেসরকারি ঘরে বসে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান শুরু হয়।

পরবর্তীতে সেটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনের একটি কক্ষে স্থানান্তরিত করা হয়। ইউপি কার্যালয়ে কয়েক বছর থাকার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি মতিগঞ্জ আর এম কে উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের একটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। ওই আশ্রয়কেন্দ্রটি এক পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও আংশিক ছাদ ধসে পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর ১৯৯৫ সাল থেকে বর্তমান পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন সাধারণ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। রোগীদের রোগের বিবরণ শোনার পর সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাওয়া অতি জরুরি কিছু ওষুধ রোগীদের দেওয়া হয়।

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম জানান, বর্তমান এ ভবনটি এতই জরাজীর্ণ, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যার বিষয়টি সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই এলাকায় একই মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (এফডব্লিউসি) একটি কক্ষ চাওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ারও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। ’

 


মন্তব্য