kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্গোৎসব

মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

শুভ মহালয়ার মাধ্যমে গত শুক্রবার দুর্গোৎসব শুরু হলেও আগামী ৭ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে।

বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডপ। অপরদিকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপনে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

চকরিয়া : কক্সবাজারের চকরিয়ায় এবার দুর্গোৎসব হবে ৮০ মণ্ডপে। এর মধ্যে ৪৩টি মণ্ডপে প্রতিমা এবং ৩৭টিতে হবে ঘটপূজা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপজেলার ১৩ মণ্ডপকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তালিকায় রেখেছে। এসব মণ্ডপে বাড়তি সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আর পেকুয়া উপজেলার তিন মণ্ডপে প্রতিমা পূজা এবং তিনটিতে ঘটপূজা হবে। এখন মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে সব মণ্ডপ।

এদিকে এবারের দুর্গোৎসবেও যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কোনো দুষ্টচক্র ঘটাতে না পারে সেজন্য আগেভাগেই নজরদারি শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মণ্ডপ কমিটির সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ’

পূজামণ্ডপে বিজিবি মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে। ’

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি তপন কান্তি দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

তাঁরা জানান, এবার উপজেলায় দুটি প্রতিমা মণ্ডপ বেড়েছে। সেই হিসাবে ৪৩ মণ্ডপে প্রতিমা পূজা এবং ৩৭টিতে ঘটপূজা হবে। উপজেলার ডুলাহাজারা, খুটাখালী, হারবাং, বরইতলী, পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল ইউনিয়নের অপেক্ষাকৃত বেশি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ১৩ মণ্ডপকে বিশেষ নজরদারিতে রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।

চকরিয়া সর্বজনীন কেন্দ্রীয় হরিমন্দির দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি মিলটন কিশোর দাশ ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল দেবনাথ জানান, গত কয়েকবছর ধরে যেভাবে প্রতিম পূজার খরচ বেড়েছে তা অবিশ্বাস্য। সেই হিসাবে অনুদান প্রাপ্তিও একেবারে নগণ্য।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুল আজম জানান, আগামী ৬ অক্টোবর থেকে প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করবেন মণ্ডপে মণ্ডপে।

এছাড়া পুলিশ ও র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ টহল দল থাকবে। যাতে কোনো দুষ্টচক্র আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে।

থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘উপজেলায় যে কয়টি মণ্ডপ রয়েছে সব মণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ নেতাদের নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যাতে কেউ দুশ্চিন্তায় না থাকে, সেই ব্যাপারে অভয় দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কেউ যদি শান্তিপূর্ণ পরিবেশের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

রাউজান : গত শুক্রবার দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বার্ষিক আলোচনা সভা, শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি।

গশ্চি নয়াহাটে একটি কমিউনিটি সেন্টার মাঠে পরিষদের সভাপতি প্রকাশ শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের

সাধারল সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন, বাংলাদেশ হিন্দু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার মজুমদার, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি শ্যামল পালিত ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপক দত্ত, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী নিখিল চন্দ্র চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সমীর দাশগুপ্ত ও উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন দে। অতিথি ছিলেন চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, আব্বাস উদ্দিন আহমদ, লায়ন সাহাবুদ্দীন আরিফ, ভূপেশ বড়ুয়া, সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল, বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, সরোয়ার্দী সিকদার, রোকন উদ্দিন ও তসলিম উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘দুর্গতিনাশিনী’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। রাতে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পটিয়া : এ বছর সর্বজনীন ১৬৮ ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ৪০টিসহ সর্বমোট ২০৮ মণ্ডপে পূজা হবে। দক্ষিণ জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবুল ঘোষ বাবুন ও সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দে জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সব উপজেলায় দুর্গোৎসব প্রাণবন্ত করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পটিয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি ডা. দিলীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘পূজায় যাতে কোনো অঘটন ঘটতে না পারে সেজন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ’

পটিয়া পৌরসভা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি বিমল মিত্র বলেন, ‘পটিয়ায় সব সম্প্রদায়ের মানুষ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। যা যুগে যুগে অব্যাহত আছে। ’ তিনি জানান, সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী প্রতিটি মণ্ডপের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ও পাঁচ হাজার কাপড় অনুদান এবং দুই দিনব্যাপী বিনা মূল্যে বাস সার্ভিস দিয়েছেন।

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ’


মন্তব্য