kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আয়োজকদের দাবি

দেশের সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রাউজানে

জাহেদুল আলম, রাউজান   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দেশের সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রাউজানে

রাউজানে এবারও উপজেলা পর্যায়ে দেশের সর্বোচ্চসংখ্যক মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। বিগত কয়েকবছর ধরে ওই উপজেলায় সবেচেয়ে বেশিসংখ্যক মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে।

এবার উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন এবং এক পৌরসভায় মণ্ডপের সংখ্যা ২২৪টি। গতবছর ছিল ২১৮টি।

রাউজানের বিভিন্ন স্থানে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। প্রতিমা তৈরি শেষে চলছে রঙ তুলির কাজ। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে ওঠছে দেবীর রূপ। পাশাপাশি উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ উপলক্ষে গতকাল

বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তাদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয় এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন।   এছাড়া গত শনিবার উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী প্রধান অতিথি ছিলেন। আগামীকাল শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ রাউজান পূজা পরিষদের প্রস্তুতি সভা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে গঠন করা হয়েছে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফকিরহাট কালীবাড়ির মন্দির, পশ্চিম রাউজান কুলালপাড়া, ঢেউয়াপাড়া, বাইন্যা পুকুর পাড়, পাহাড়তলী ঊনসত্তরপাড়া, নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ২২৪টি পূজামণ্ডপে প্রতিমার শৈল্পিক রূপ দিচ্ছেন শিল্পীরা। তাঁরা জানান, এখানে জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু হয় বাঁশ-খড়কুটোর উপর মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ। শিল্পীদের নিপুণ হাতে ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ। চলছে রঙ তুলির কাজ। শিল্পীর আঁচড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে দশভূজা দেবীদুর্গাসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমূর্তি।

শিল্পী নান্টুপাল ৩৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কাদামাটি ও রঙ তুলির সাথে বেড়ে উঠেছি জন্মস্থান শরীয়তপুর জেলার কার্তিকপুর গ্রামে। তবে দীর্ঘসময় ধরে রাউজানে বসবাস করছি। প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ সেট প্রতিমা তৈরির অর্ডার পাই। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এরই মধ্যে কয়েক সেট প্রতিমা সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। ’ তিনি জানান, প্রতিসেট প্রতিমা তৈরিতে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ২৫ হাজার। সেটপ্রতি লাভ ১০ হাজার। চার কর্মচারী আছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই প্রতিমা তৈরির কাজ করেন।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, ‘রাউজানে যত মণ্ডপে দুর্গোৎসব হয়, আমার মনে হয় তা সারাদেশে সর্বোচ্চ। ’ তিনি জানান, এখানে দুর্গোৎসবে শান্তি শৃঙ্খলা বজার রাখার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী থাকার পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। পুলিশের ভ্রাম্যমাণ দলও থাকবে মাঠে। ’

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি প্রিয়তোষ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সুমন দে বলেন, রাউজানে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। এবার মণ্ডপের সংখ্যা ২২৪টি। গত বছর ছিল ২১৮টি। আমরা মনে করি, সারাদেশে রাউজানেই সর্বোচ্চসংখ্যক মণ্ডপে দুর্গোৎসব হয়। শুধু এবার নয়, গত বেশ কয়েকবছর ধরে রাউজানই সেরা।

দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ম্যালকম চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের মাঝে উত্তর রাউজানে প্রায় দুই হাজার এবং দক্ষিণে তিন হাজার কাপড় বিতরণ করা হচ্ছে। ’


মন্তব্য