kalerkantho


জঙ্গিদের আস্তানা বস্তিতে!

এস এম রানা   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নগরীর বিভিন্ন বস্তিতে জঙ্গি ও দাগি সন্ত্রাসীরা আস্তানা গেড়েছে বলে তথ্য পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গত মঙ্গলবার আইস ফ্যাক্টরি সড়কের একটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে একে-২২ রাইফেলের মতো অস্ত্র উদ্ধারের পর ওই ধারণা আরও ‘শক্ত’ হয়েছে।

ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেড ও জেএমবি সদস্যদের কাছ থেকে একে-২২ রাইফেলের মতো ভারী অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল।

জানা গেছে, নগরীতে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ভাড়া নিতে পুলিশের তথ্য ফরম কিংবা পরিচয়পত্র দেখাতে হচ্ছে। এতে জঙ্গি সদস্যরা বাসা-বাড়ি ভাড়া নেওয়া নিরাপদ মনে করছে না। তাই নিজেদের নিরাপদ রাখতে বস্তির কুঁড়েঘর ভাড়া করে জঙ্গিরা ঘাঁটি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন

বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি ও ভারী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। এখন বাসা ভাড়া করতে গেলে পরিচয়পত্র লাগছে। তাই নিরাপদ ভেবে জঙ্গিরা বস্তিতে আস্তানা তৈরি করতে পারে। ’

তিনি জানান, বস্তিগুলোতে হাজার হাজার ঘর আছে। অল্প টাকায় সেখানে বাসা ভাড়া পাওয়া যায়।

কোনো ধরনের পরিচয়পত্র লাগে না। তাই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে যে কেউ বস্তিতে বাসা ভাড়া নিতে পারে। গত মঙ্গলবার নগরীর রেলওয়ে বাস্তুহারা কলোনিতে অভিযান চালিয়ে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি বন্দুক, দুটি ম্যাগজিন, ১৬টি রকেট ফ্লেয়ার ও চারটি রামদা উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে অস্ত্র আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। বস্তি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় জঙ্গিদের কেন সন্দেহ করা হচ্ছে জানতে চাইলে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ জানান, অতীতে মাদকের আখড়াখ্যাত বস্তিগুলোতে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রামদা, এলজিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দেখা গেছে। কখনো ভারী অস্ত্র দেখা যায়নি। কিন্তু এবারই প্রথম বস্তি থেকে ভারী অস্ত্র পাওয়া গেল। বস্তির কম আয়ের লোকজনের মধ্যে মাদক কারবার নিয়ে সমস্যা হয়। মাদক কারবারির হাতে ভারী অস্ত্র রাখার সম্ভাবনা কম। তাই জঙ্গি কিংবা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দিকে দৃষ্টি দিতে হচ্ছে। নিরাপদ ভেবে বস্তিতে আস্তানা তৈরি করে থাকতে পারে দুর্বৃত্তরা।

জানা গেছে, ইতোপূর্বে সদরঘাট থানা এলাকায় জেএমবির সাংগঠনিক প্রয়োজনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। ওই সময় ব্যবসায়ীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। উদ্ধার হয় ভারী অস্ত্র। চট্টগ্রামের ছিনতাইয়ের সময় ভারী অস্ত্র ব্যবহার ছিল সেটিই প্রথম। ওই সময় পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, জেএমবি ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটিয়েছিল। অস্ত্রগুলোও তাদের। অপরদিকে নিকট অতীতে বস্তি থেকে ভারী অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। জঙ্গিদের অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল বাঁশখালীর পাহাড় এবং নগরীর কয়েকটি বাসা থেকে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, ‘বস্তিতে ভারী অস্ত্র থাকার কথা নয়, নিশ্চয় জঙ্গি কিংবা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নিরাপদ আস্তানা তৈরি করেছে বস্তিতে। ’

নগর পুলিশ ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরম সংগ্রহ করছে। কিন্তু বস্তিতে এখনো তথ্য ফরম বিলি হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগরীর সব বাসিন্দাকে তথ্য ফরম দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় আট লাখ ফরম বিতরণ হয়েছে। এগুলো পর্যায়েক্রমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে বস্তিতে বিতরণ শুরু হয়নি। ’

পর্যায়ক্রমে বস্তিতেও ফরম বিতরণ করে তাদের তথ্য নেওয়ার পরিকল্পনা আছে এবং তা বাস্তবায়িত হবে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য