kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পর্যটক টানছে তৈদুঝর্না

দীঘিনালা প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পর্যটকদের কাছে টানছে দীঘিনালার তৈদুঝর্না। এটি রাঙামাটির সুভলং ঝর্না এবং খাগড়াছড়ির আলুটিলার রিছাং ঝর্নার চেয়েও বড়।

ওই ঝর্না ঘিরে রয়েছে আরো তিন ঝর্না এবং দুটি জলপ্রপাত। সব মিলিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠেছে পর্যটনকেন্দ্রটি। এছাড়া বাঘাইহাটের পাশে রয়েছে শুকনাছড়ি নামে আরেকটি ঝর্না।

জানা গেছে, তৈদুঝর্নায় যেতে হাঁটাপথ প্রায় ৫০ মিনিটের। আর বাঘাইহাটের ঝর্নায় যেতে হাঁটতে হয় মাত্র ১০ মিনিট। তৈদুঝর্না দেখতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত পর্যটক আসেন। তবে যাতায়াত সুবিধা না থাকায় প্রায় এক ঘণ্টার পথ হাঁটার কারণে কিছুটা ভোগান্তিও পেতে হয় সমতল এলাকা থেকে আসা পর্যটকদের। ইতোমধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থাসহ ঝর্না এলাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে ঝর্নার অবস্থান। স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী ঝর্নাটির নাম দিয়েছে ‘তৈদুঝর্না’। ত্রিপুরা ভাষায় তৈ অর্থ পানি আর দু অর্থ ধারা। তৈদুপাড়ার অজিত ত্রিপুরা (৩৮) জানান, গ্রামের লোকজন পাহাড়ে জুমচাষ করতে গিয়ে এ ঝর্না আবিষ্কার করেন। তাঁরা ঝর্নার নাম দেয় ‘তৈদুঝর্না।

সরেজমিনে দেখা যায়, তৈদুঝর্নায় পৌঁছার আগে তৈদুছড়াতে প্রায় এককিলোমিটার পর্যন্ত পড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতির বড় বড় পাথর। কিছু পাথর দেখলে মনে হয় একপাল হাতি বাচ্চা নিয়ে ছড়ার পানিতে শুয়ে আছে। পাশেই মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত। পানির নিচে প্রাকৃতিকভাবে পাথর দিয়ে ঢালাই করা! পরিষ্কার পানির স্রোতে উপচে ছিটে ওঠা পানির ফোয়ারা দেখলে সেখানে ভিজে গোসল করার লোভ সামলানো কারো সম্ভব নয়।

সম্প্রতি ঝর্না দেখতে এসেছিলেন দিনাজপুর থেকে মো. আসাদুজ্জামন অনিক এবং লালমনির হাট থেকে এইচ এস এম আল ছালিহ সাব্বির। তাঁরা জানান, রাঙামাটির সুভলং ঝর্না এবং খাগড়াছড়ির আলুটিলার রিছাং ঝর্নায় গিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু দুজনের কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে তৈদুঝর্না। তাঁদের মতে, তৈদুঝর্নায় পড়ন্ত পানির মাঝখানে বসার জন্য তিন স্তরে তিনটি জায়গা রয়েছে। যে সুবিধা অন্য ঝর্নাগুলোতে নেই। এছাড়া তৈদুঝর্নার পাশের জলপ্রপাতগুলো আরো বেশি আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। তাই দুর্গম এলাকায় হলেও কয়েকবার বন্ধুবান্ধব নিয়ে তৈদু ঝর্নাায় গিয়েছেন তাঁরা।

কীভাবে যাবেন : খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে গাড়িতে নয় কিলোমটাির দূরে নয়মাইল নামক স্থানে নামতে হবে। সেখান থেকে যেতে হবে সীমানাপাড়া। এর পর হাঁটাপথ শুরু। প্রায় এক ঘণ্ট হাঁটার পর দেখা মিলবে তৈদুঝর্না।


মন্তব্য