kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মিরসরাই

ছয় পর্যটনকেন্দ্রের হাতছানি

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আলোর মুখ দেখছে না মিরসরাই উপজেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলো। ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহামায়া সেচ সমপ্রসারণ প্রকল্প উদ্বোধন করতে এসেছিলেন।

ওই সময় তিনি সেখানে দ্রুত পর্যটনকেন্দ্র বাস্তবায়নের কথা বললেও ইতোমধ্যে ছয় বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া প্রকল্প এলাকা ছাড়াও এখানকার ফেনী নদীর মুহুরী প্রকল্প, বঙ্গোপসাগর উপকূলের ১৮ কিলোমিটার সবুজ বনায়ন, ওয়াহেদপুরের বাওয়াছড়া প্রকল্প, খৈয়াছড়া ঝর্না ও নাপিত্তার ঝর্না পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে। যথাযথ উদ্যোগ নিলে মিরসরাইয়ে কমপক্ষে ছয়টি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠতে পারে। বর্তমানে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি না পেয়েও ওই ছয় স্থানে ভ্রমণপ্রিয় মানুষের ঢল নামে।

২০১৩ সালে সরকারের বনবিভাগ কোনো অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াই মহামায়া লেক এলাকাকে ইকোপার্ক নাম দিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়। পরবর্তীতে কেন্টিন, শোভাবর্ধন বনায়ন, কটেজসহ এখানে বেশ কিছু উন্নয়নকাজ করে বনবিভাগ। এছাড়া সম্প্রতি খৈয়াছড়া ঝর্নায় যাতায়াতের জন্য সড়ক নির্মাণে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে ১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তবে মুহুরী প্রকল্প এলাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পর্যটন করপোরেশন বেশ কয়েকদফা উদ্যোগ নিয়েও পরবর্তীতে অজানা কারণে চুপ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে মহামায়াকে ইকো-পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এবার খৈয়াছড়া ঝর্নায় যাওয়ার সড়ক তৈরির জন্যে ১২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ’

বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক জামশেদ আলম বলেন, ‘এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা স্থানগুলোকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। ’

মহামায়া লেক : ২০১০ সালের ডিসেম্বরে মহামায়া সেচ প্রকল্পের উদ্বোধনের পর থেকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক আসতে শুরু করে। সেই সময় পাহাড়ি ঝর্না অভিমুখে মহামায়া ছড়ায় বাঁধ দেওয়া হলে ১১ বর্গকিলোমিটার হ্রদের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এর পরিধি বেড়ে প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটার অতিক্রম করেছে। যা ভ্রমণপিপাসু মানুষকে আকৃষ্ট করে।

মুহুরী প্রজেক্ট : ১৯৮৪ সালে বাস্তবায়িত হয় মুহুরী প্রকল্প। মিরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সীমানা চিহ্নিতকারী ওই প্রকল্প এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিলিয়ে দিচ্ছে পর্যটকদের মাঝে। এখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ বেড়াতে আসেন।

উপকূলীয় বনায়ন : উপজেলার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর উপকূলকে রক্ষা করতে ১৯৮৪ সালে নির্মাণ করা হয় একটি বেড়িবাঁধ। বাঁধের পার্শ্ববর্তী ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সরকারের উপকূলীয় বনবিভাগ হাতে নেয় বনায়ন প্রকল্প। বর্তমানে বাঁধের পার্শ্ববর্তী এলাকাজুড়ে সবুজের সমারোহ। এখানে প্রতিদিন ভোর ও সন্ধ্যায় নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখির কুজনে মুখরিত হয় সবুজ এ বনায়ন এলাকা। রয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা।

ওয়াহেদপুর ভাওয়াছড়া প্রকল্প : উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি ঝর্না অভিমুখে কৃষি সেচের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল ভাওয়াছড়া সেচ প্রকল্প। মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয় ছোটাকারের একটি লেক। বেসরকারি একটি সংগঠন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর এলাকাটি সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠেছে। সেখানেও ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় জমে।

খৈয়াছড়া ঝর্না : খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ে এ ঝর্নার অবস্থান হওয়ায় পর্যটকেরা এর নাম দিয়েছেন ‘খৈয়াছড়া ঝর্না’। কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ওই ঝর্নার সৌন্দর্য আর বিশালত্ব প্রকাশ পায়। এরপর দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে আসতে শুরু করেন। ইতোমধ্যে দুর্গম এলাকায় ঝর্নার অবস্থান হওয়ায় বেশ কয়েকজন পর্যটক ছিনতাইয়ের শিকার হন। উঁচু পাহাড় বেয়ে উঠার সময় কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটে।

নাপিত্তার ছড়া ঝর্না : প্রপাতের মতোই স্বচ্ছ জলরাশি গড়িয়ে পড়ছে পাথরের পর পাথরে। নির্জন শান্ত পাহাড়ের সিঁড়ি বেয়ে পানির ধারা আছড়ে পড়ছে নেমে আসছে সমতলে। মনে হবে যেন লতাপাতা-গুল্ম, বাঁশবন, বুনোফুল আর পাহাড়ি সবুজ পরম মমতায় আগলে রেখেছে ওই ক্যানভাস। পর্যটকদের কাছে যা ‘নাপিত্তার ঝর্না’ নামেই পরিচিত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের নয়দুয়ারিয়া এলাকা থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বের গহিন পাহাড়ে এর অবস্থান। এখানেও খুব ঝুঁকি নিয়ে দেশের নানা জায়গা থেকে ভ্রমণপ্রিয় পর্যটকেরা সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।


মন্তব্য