kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

সাজেকে মেঘের ভেলা

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাজেকে মেঘের ভেলা

রাঙামাটির সাজেকে পর্যটকদের জন্য গড়ে ওঠেছে দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। ছবি : জাকির হোসেন

পাহাড় ঝর্না নদী ও সমতলের মেলবন্ধন খাগড়াছড়িতে দিন দিন বাড়ছে পর্যটক। আর মেঘের ভেলায় ভেসে থাকা রাঙামাটির সাজেকও দেখতে যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে।

সাজেকের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং খাগড়াছড়ির প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে ছুটে আসেন সবাই।

তবে সম্ভাবনাময় ওই দুই পর্যটন এলাকার উন্নয়নে  যুগোপযোগী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পর্যটকদের। বিদেশি পর্যটকদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা দরকার বলে মনে করেন তাঁরা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজুরী চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে পর্যটকদের জন্য সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। শান্তিচুক্তির শর্তানুযায়ী পর্যটনখাত জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এছাড়া আলুটিলাসহ সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ’

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে রয়েছে অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র। আলুটিলা রহস্যময় গুহা, রিছাং ঝর্না, দেবতা পুকুর, দীঘিনালার তৈদুঝর্না, পানছড়ির অরণ্যকুটির এবং মানিকছড়ির মং রাজবাড়িতে পর্যটকের মেলা বসে প্রায় প্রতিদিন। গুহায় ঢুকতেই সবার শরীর শিহরিত হয়। আর পাহাড়ের সুখ-দুঃখের অশ্রুসিক্ত পানিতে প্রাকৃতিক ছড়া থেকে সৃষ্ট রিছাং ঝর্না এককথায় অসাধারণ। তবে সেখানে যেতে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করতে হলেও ঝর্না দেখার পর সব কষ্ট উবে যায়। আলুটিলায় বৌদ্ধধর্মের অনুসারীদের তীর্থস্থান ধাতুচৈত্য বৌদ্ধ বিহারও নির্মাণশৈলীর কারণে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। শহর লাগোয়া জেলা পরিষদ পার্ক ও ঝুলন্ত সেতু পর্যটকে ঠাসা থাকে প্রায়ই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেক লীলাভূমি রাঙামাটির সাজেক। তবে সড়কপথে যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। পথেই দেখা মেলে বাঘাইহাটের হাজাছড়া ঝর্না। আর যেতে যেতে প্রকৃতি আর বর্ণিল জীবনধারা দেখে পর্যটকরা বিমোহিত হন। সাজেকের সবশেষ উঁচু পাহাড়ে উঠতেই পর্যটকের মনপ্রাণ ভরে যায়। মেঘ যেন ঢেকে রেখেছে সাজেক। ভেসে ওঠে অনন্য অপূর্ব সুন্দর এক দৃশ্য। রুইলুই থেকে কমলাক পর্যন্ত পাংখো, লুসাই, ত্রিপুরাদের জীবনযাত্রার দর্শক হতে পারেন যে কেউ। আরো আছে চাকমা আর চাকদের বসবাস।

সদ্য বিয়ে হওয়া দম্পতি ইমতিয়াজ রহমান ও আদিবা রহমান খুলনা থেকে বেড়াতে এসেছেন খাগড়াছড়িতে। তাঁরা আলুটিলায় ঘুরে মজা পেলেও মানসম্মত খাবারের দোকান এবং থাকার জন্য রিসোর্ট না থাকায় হতাশ। তাঁদের মতে, রিছাং ঝর্না ও রহস্যময় গুহা দেখার সময় নতুন পর্যটকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা থাকা দরকার।

স্থানীয় পর্যটক আবু হায়দার বলেন, ‘বিশেষত রিছাং ঝর্নায় অসতর্কতাবশত মাঝে মাঝে দুর্ঘটনাও ঘটছে। তাই পর্যটকদেরকে ঝর্নায় ঘুরতে আগেভাগে নিয়ম বলে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা দরকার। ’

একটি করপোরেট কম্পানির চাকুরে আমজাদ আলী বলেন, ‘মনের খোরাক মেটাতে বার বার ছুটে আসি এখানে। তবে দুর্গম সড়ক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা হলেও দুর্ভাবনায় রাখে সবাইকে। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পাহাড়ের বাসিন্দা অরিন্দম চাকমা বলেন, ‘সাজেকে রিসোর্টগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া, খাবার মূল্য বেশি এবং যানবাহনগুলোর পকেটকাটা ভাড়ায় বিরক্ত হয়েছি। এ জন্য প্রশাসনের আরো নজরদারি দরকার। ’ তিনি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আরো আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন।

হোটেল গাইরিং-এর মালিক এস অনন্ত ত্রিপুরা ও হোটেল অরণ্যবিলাসের স্বপন দেবনাথ জানালেন, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তাঁরা সব সময় প্রস্তুত। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন এখানকার হোটেল-মোটেলের সবাই। তাঁরা জানান, বিভিন্ন উৎসব ছাড়াও বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার সব কটি হোটেলের বেশির ভাগ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে যায়। গত দুই বছরের তুলনায় এখন খাগড়াছড়িতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি তাঁদের।


মন্তব্য