kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বহিরাগতদের আনাগোনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

কিংশুক পার্থ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। সঙ্গে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে।

প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের দায়িত্বহীনতায় এসব হচ্ছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাকৃতিক ঝর্না, টেলিহিল, বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েই যেন দায়িত্ব শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ! এতে লেখা আছে, ‘বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ, মোটরসাইকেল প্রবেশ নিষেধ। ’ তবে সেই নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ। দিন-রাত যখন ইচ্ছা তখনই ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ছে বহিরাগতরা। এছাড়া ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। মূলফটকের কিছু দূরে পুলিশের অবস্থান থাকলেও থামছে না বহিরাগতদের আনাগোনা। ফলে ক্যাম্পাসে ঘটছে প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আনসার বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে পুলিশের একটি থানা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সীমানা প্রাচীরের কাজও প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। ’

প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মূলফটকে বিজ্ঞপ্তি ও দারোয়ান আছে। এর বাইরেও কিছু পকেট গেট দিয়ে ওরা প্রবেশ করে বলে জানতে পেরেছি। তবে সীমানা প্রাচীরের কাজ শেষ হলে আশা করি এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো মোকাদ্দেস মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক তত্পর রয়েছি। আশা করি ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না। ’

গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে ক্যাম্পাসের গোলপুকুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার ও তাসলিমা ফিরোজ নওশিন ছিনতাইয়ের শিকার হন। তাঁরা প্রীতিলতা হল থেকে জিরো পয়েন্ট যাওয়ার পথে গোলপুকুরের সামনে পৌঁছালে অস্ত্র দেখিয়ে  মোবাইল, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুই ছিনতাইকারী।

এর কয়েকদিন আগে একই এলাকায় হিসাববিজ্ঞানের ছাত্র রানা মল্লিক বহিরাগতদের খপ্পরে পড়েন। অচেনা তিন লোক হঠাৎ তাঁকে ঘিরে ফেলে। দায়ের কোপ দিয়ে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায় এরা। এ ঘটনার পর রানা প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ ব্যপারে রানা মল্লিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর দুপুরে এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে স্বপ্নেও ভাবিনি। যা হোক ওইদিন জীবিত ফিরতে পেরেছি!’ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করা না গেলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় গত এক বছরে শতাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার বেশিরভাগ ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনীয় স্থান, টেলিহিলে, আবাসিক হল ও কটেজে। বেশিরভাগ ঘটনা পুলিশকে জানানো হয় না। মাঝে-মধ্যে কেউ কেউ পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও দুর্বৃত্তরা রয়ে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

কটেজে ছিনতাইয়ের শিকার উমংসিং মারমা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঘটনার পর থানায় জিডি করার জন্য বড়ভাইদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বললেন, জিডি করে লাভ নেই। জিনিস ফেরত পাওয়া যায় না। তাই আর পুলিশকে জানানো হয়নি ঘটনাটি। ’

শুধু শিক্ষার্থীরা নন, শিক্ষকেরাও চুরি-ছিনতাইয়ের শিকার হন। সমপ্রতি পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এ কে আরিফুল হক সিদ্দিকীর বাসা থেকে ল্যাপটপ ও চারটি স্মার্টফোন চুরি হয়ে যায়। গত ৯ এপ্রিল ভোররাতে একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল আজিমের বাসার জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা একটি ল্যাপটপ, একটি এলইডি মনিটর, একটি ট্যাব, দুটি এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক ও দুটি পেনড্রাইভ, ন্যাশনাল আইডি ও এটিএম কার্ড, মানিব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে। এ প্রসঙ্গে রেজাউল আজিম বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মীদর অবহেলা ও রাস্তার বাতিগুলো নষ্ট থাকায় দুর্বৃত্তরা অন্ধকারে এ ধরনের কাজে করার সাহস পাচ্ছে। ’

শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী হিমেল সিফাত বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মোহেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু এসব স্থানে গিয়ে হারাতে হচ্ছে মোবাইল, টাকা-পয়সা। আর ভাগ্য খারাপ হলে দায়ের কোপ তো আছেই!’


মন্তব্য