kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চকরিয়ায় ১০ টাকায় চাল পাচ্ছে ১৩১২৫ পরিবার

পেকুয়ায় কর্মসূচি শুরু হয়নি এখনো

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’-স্লোগানে চকরিয়ায় শুরু হয়েছে প্রতিমাসে ৩০০ টাকায় (কেজি ১০ টাকা) ৩০ কেজি চাল বিতরণ কর্মসূচি। উপজেলার ১৮ ইউনিয়নের হতদরিদ্র, পঙ্গু ও প্রতিবন্ধীসহ অতি দরিদ্র ১৩ হাজার ১২৫ পরিবার এর সুফল পাচ্ছে।

সপ্তাহের শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার তাঁরা ডিলারের কাছ থেকে ১০ টাকা কেজিতে চাল কিনতে পারবেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে মাত্র ১০ টাকায় চাল পেয়ে খুশিতে আত্মহারা এসব দরিদ্র পরিবার। এদিকে বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়নি পেকুয়ায়। এতে ওই উপজেলার দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেখানেও দুয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে কার্যক্রম।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্র জানায়, পল্লী রেশনিং প্রকল্পের আওতায় চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়নে ১০ টাকায় চাল বিক্রির জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৭ ডিলার। জনসংখ্যা অনুপাতে এসব ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ করা হয়। অপেক্ষাকৃত কম জনসংখ্যা থাকা ইউনিয়নে একজন, আবার যেসব ইউনিয়নে জনসংখ্যা বেশি সেখানে দুজন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ডিলার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে ওই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাহেদুল ইসলাম কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

উপজেলা খাদ্য বিভাগের পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন কালের কণ্ঠকে জানান, পল্লী রেশনিং প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৮ ইউনিয়নের ১৩ হাজার ১২৫ জন দরিদ্র, হতদরিদ্র, পঙ্গু ও প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষকে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এসব উপকারভোগীর তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা কমিটির নিকট পাঠায়। পরবর্তীতে তালিকা যাচাই-বাছাইপূর্বক চূড়ান্তভাবে এসব উপকারভোগীকে অনুমোদন দেন উপজেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শশীধর চাকমা।

পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন আরো জানান, ইউনিয়ন ভিত্তিক নয়, যেসব ইউনিয়নে এই প্রকল্পের উপকারভোগী ৫০০ জনের মধ্যে রয়েছে সেখানে একজন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। ৫০০ জনের অধিক উপকারভোগী যেসব ইউনিয়নে রয়েছে সেখানে দুজন করে ডিলার নিয়োগ পায়। সেই হিসাবে উপজেলার ১৮ ইউনিয়নে ২৭ জনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ করেছে উপজেলা সমন্বয় কমিটি।

লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কাইছার বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের চলমান এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে মাত্র ১০ টাকা দরে ৩০০ টাকায় প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পেরে আমার ইউনিয়নের উপকারভোগীরা খুশিতে আত্মহারা। ’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলার ১৮ ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে মাত্র ১০ টাকায় চাল বিক্রি কার্যক্রম। সরকারের পল্লী রেশনিং প্রকল্পের আওতায় প্রতি শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার ইউনিয়ন ডিলারের কাছ থেকে মাত্র ৩০০ টাকায় প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পেতে শুরু করেছেন ১৩ হাজার ১২৫ জন উপকারভোগী। ’

ইউএনও বলেন, ‘যাঁদেরকে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে তাঁদের ব্যাপারে অনেক যাচাই-বাছাই করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্প নিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক এবং চাল বিতরণ কার্যক্রম নজরে রাখার জন্য একজন করে টেক অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ’

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারই পারে এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে। ইতোপূর্বে সরকার ঘোষণা করেছিল, ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর। সেই প্রতিশ্রুতি সরকার রেখেছে। ভবিষ্যতে আরো বেশিসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’

এদিকে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি-না জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাফায়েত আজিজ চৌধুরী রাজু বলেন, ‘পল্লী রেশনিং প্রকল্পের আওতায় গত বৃহস্পতিবার ১০ টাকায় চাল বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। সেখানে আমাকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেও বলা হয় খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। কিন্তু কী কারণে ওইদিন এই কর্মসূচির উদ্বোধন হয়নি তা বলতে পারব না। ’

তবে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূলত এই প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচন করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী। দুয়েকটি ইউনিয়ন এখনো চুড়ান্ত তালিকা দিতে না পারায় ওই কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে আগামী মঙ্গলবার থেকে একযোগে উপজেলার সাত ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হবে।

ইউএনও জানান, পেকুয়ার সাতটি ইউনিয়নে ১০ টাকার চাল বিক্রির জন্য ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৮ জনকে। সেই হিসাবে কোনো ইউনিয়নে তিনজন ডিলারও নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া একের পর এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এখানকার মানুষ। তাই ইউনিয়নের সংখ্যা কম হলেও অন্য উপজেলার চেয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় ১০ হাজার দরিদ্র মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

 


মন্তব্য