kalerkantho

সোমবার । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৮ ফাল্গুন ১৪২৩। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুই বছরে ৬৫ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

এস এম রানা   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দুই বছরে ৬৫ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই বছর আগে বিচারাধীন মামলা ছিল ২৬ হাজারের বেশি। এখন সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ১৭ হাজার ৭৪৮টি। এছাড়া ওই সময়ে প্রায় ৬৫ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

জানা গেছে, দুই বছর আগে ওই আদালতে যোগ দেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান। তখন ৩২ বছরের পুরনো মামলাও বিচারাধীন ছিল। এসব মামলা নিস্পত্তি করতে তিনি ‘একগুচ্ছ উদ্যোগ’ নেন। যেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   ধীরে ধীরে মেলেছে এর সুুফল।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অতীতে মামলার সাক্ষীদের হাজির করতে পুলিশের গড়িমসি ছিল। আর নির্ধারিত তারিখে মামলার সাক্ষী হাজির না হলে বরাবরের মতো পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করত আদালত। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ’

তিনি জানান, পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট কনফারেন্সে কোন কোন মামলার সাক্ষীদের হাজির করা হয়নি, সেই হিসাব তোলা হয়। ফলে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সাক্ষী হাজির হচ্ছেন। এতে বিচারকাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে। আর সাক্ষী না এলে আদালত থেকে ফোন যাচ্ছে সাক্ষীর কাছে কিংবা সংশ্লিষ্ট থানায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মামলার জট কমাতে মুন্সী মো. মশিয়ার রহমানের উদ্যোগের আরেকটি দিক হল, ‘সাক্ষী বণ্টন’। কোনো মামলায় একসঙ্গে বেশি সাক্ষী হাজির হলে এবং এতে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের ওপর চাপ পড়লে, সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। যাতে সাক্ষী নিশ্চিতভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেন। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে বিচার ব্যবস্থায় গতি এসেছে। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে দুই বছরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রায় ৬৫ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

জানা গেছে, পুরনো মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মুন্সি মো. মশিয়ার রহমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৮৪ সালের ৪ নভেম্বর দায়ের হওয়া একটি মামলার রায় হল ঘটনার ৩১ বছর পর গত বছরের নভেম্বরে।

রাউজানের প্রবাসী নুরুল আজিমের কর্মচারী নুরুল ইসলাম বাজারে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। তাঁকে মারধর করে জখমের অভিযোগে রাউজান থানায় মামলা হয়। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলার রায় ঘোষণা করলেন মশিয়ার রহমান। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় আদালত ১০ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। অথচ ওই ১০ আসামিকে ৩১ বছর আসামি হয়ে আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে।

একইভাবে ১৯৮৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাঁশখালীর আবদুল মালেকের স্ত্রী মোস্তফা খাতুনের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৫ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর।

১৯৯০ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাঁশখালীর চাম্বল বাজারে যাওয়ার পথে মোস্তফা আলী নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে আসামি আবদুস সালামকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন মুন্সি মো. মশিয়ার রহমান।

আদালত সূত্র জানায়, সাক্ষীদের হাজির করতে চট্টগ্রাম জেলার ১৮ থানা ও হাজতখানা প্রায়ই পরিদর্শনে যান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। থানায় গিয়ে সাক্ষীর সমন পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাক্ষীদের হাজিরা, গ্রেপ্তারি ও ক্রোকি পরোয়ানা তামিলের নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া নিয়মিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠকের ব্যবস্থা করে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পথে বাধা চিহ্নিত এবং সমাধানের পথ বের করা হয়।


মন্তব্য