kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাঁচামরিচের দাম কমছে, আড়তে কেজি ৭০

আসিফ সিদ্দিকী   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তে কাঁচামরিচের দাম অর্ধেক কমে গতকাল কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। কোরবানির ঈদের পর একই মরিচ বিক্রি হয়েছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

ভারত থেকে মরিচের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। সরবরাহ এই অবস্থায় থাকলে দাম আরো কমবে বলে আশা আড়তদারদের।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার আলী আব্বাস বলেন, ‘ঈদের আগে থেকে কাঁচামরিচের বাজার ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে দেশে মরিচের উৎপাদনে ধস নামায় ভারত থেকে আমদানি করে চাহিদা মেটানো হচ্ছিল। ’

তিনি জানান, ঈদের ছুটি ঘিরে আমদানি কমে যাওয়ায় শুধু দেশিয় মরিচের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। এতে হু হু করে বেড়ে যায় দাম। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে ভারতীয় মরিচ আসা বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। গতকাল নওগাঁ ও ঝিনাইদহ থেকে দেশি মরিচ এসেছে ৯ টন। একইসাথে ভারতীয় মরিচ এসেছে ১০ টন। ফলে দাম কমতে শুরু করেছে।

ব্যসায়ীরা জানান, শীত মৌসুমে চট্টগ্রাম শহরের আশপাশ, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও চকরিয়া থেকে আসা মরিচ দিয়ে বাজারের চাহিদা মেটানো হয়। কিন্তু বর্ষাকালে বন্যার কারণে এসব অঞ্চলে মরিচ উৎপাদন হয় না। ফলে ওই সময়ে উত্তরাঞ্চলের মরিচ দিয়েই চট্টগ্রামের চাহিদা মেটানো হয়। এবার সেখানে বন্যার কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। গত বছরও একই অবস্থা হয়েছিল। এবার দেশে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংকট সামাল দিতে ভারত থেকে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে মরিচ আমদানি শুরু হয়। ফলে মরিচের বাজার ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এখন সেই আমদানি করা মরিচ চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও চকরিয়া কক্সবাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে।

জানা গেছে, ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে প্রচুর কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ১০ ট্রাকে ভারত থেকে প্রায় ১৪০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আসে। এসব মরিচ প্রতিকেজির আমদানি মূল্য ৪০ সেন্ট ধরে শুল্কায়ন হয়েছে। সেই হিসাবে দাম আসে ৩২ টাকা। এতে কোনো আমদানি শুল্ক নেই। এর সাথে পণ্য পরিবহন খরচ যোগ হয়ে কোনোভাবেই দাম কেজি ৩৫ থেকে ৩৭ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। এরপরও আড়তে এসব মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। তবে আড়তদাররা বলছেন, সরবরাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে দাম আরো কমে আসবে।

এদিকে পাইকারিতে এই দামে কাঁচামরিচ বিক্রি হলেও নগরীর খুচরা বাজারে যে যার মতো দামে বিক্রি করছে মরিচ। কাজির দেউড়ি বাজারে মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৬০ টাকায়। তবে কর্ণফুলী, বহদ্দারহাট ও ষোলশহর বাজারে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রিয়াজউদ্দিন বাজারে সরবরাহকৃত মরিচের বড় অংশ আসে চকরিয়া থেকে। সেখানে এবারও মরিচের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। তবে ফলন আসতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। জানতে চাইলে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘এবার বড় বন্যা না হওয়ায় আমরা আগে-ভাগেই মরিচ আবাদ করেছি। মরিচ ফলন দিতে আরো দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। ’


মন্তব্য