kalerkantho


খাল কচুরিপানায় ভরা চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা

নজরুল ইসলাম, পটিয়া থেকে ফিরে   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



খাল কচুরিপানায় ভরা চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা

পটিয়ার বড়লিয়ায় কাটাখালি খাল কচুরিপানায় ভরে গেছে। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটিয়ার বড়লিয়ায় কাটাখালী খালে কচুরিপানা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ওই এলাকার কয়েক শ একর জমিতে আমন ও বেরোচাষ হুমকির মুখে পড়েছে। খালে পলি জমে থাকায় এবার আশাপাশের জমিতে আমনচাষ হয়নি। জমিগুলো আগাছায় ভরে থাকায় আসন্ন বোরো মৌসুমে বোরোচাষ নিয়েও কৃষক উদ্বিগ্ন। এলাকাবাসী অবিলম্বে কচুরিপানা অপসারণ করে খালে পানির গতিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কয়েক বছর আগে কাটাখালী খাল খনন করে পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে এনেছিল। পাশাপাশি খনন করা হয় কালাগাজী খাল, ধামাই বিবির খাল, চাঁদের গোদা, মতিয়ার খাল, পশ্চিম বড়লিয়া ওকন্যেয়ারা, বাড়ৈকাড়া, কর্তালা ও বেলখাইন গ্রামের শাখা খালগুলো। এতে এলাকার মানুষ খালে যেমন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দেখা পেয়েছিল, তেমনি কৃষক চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পানির জোগান পান। এলাকায় বয়ে যায় আনন্দের ফাল্গুধারা। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে খালটিতে বাসা বেঁধেছে কচুরিপানা। এগুলো জমতে জমতে পানির চলাচল ব্যাহত হয়। জমিতে অতিরিক্ত পানি হওয়ায় আমনচাষ বন্ধ হয়ে যায়। আর বোরো মৌসুমে খালে কচুরিপানা ও পলি জমে থাকে। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বোরোচাষ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়।

খালের উপকারভোগী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অতীতে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহের ফলে যেমন বেশি করে মাছ পেতাম, তেমনি সহজে পানি পাওয়ায় দুই মৌসুমে চাষাবাদ করতে পারতাম। ভালোভাবেই কাটছিল জীবন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালটি সংস্কার হয়নি। ’

তবে তিনি জানান, বছর তিনেক আগে বিএডিসি খালটি খনন করায় বড়লিয়ার কৃষকের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়। সবাই আবার চাষাবাদে নেমে পড়েন। কিন্তু এখন খালটি কচুরিপানা ও পলি জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে গত বছর ওই এলাকায় আমনচাষ করা যায়নি।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় কৃষক আহমদ ছফা বলেন, ‘প্রতিকার চেয়ে ইউএনও এবং কৃষি বিভাগে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। ’

স্থানীয় অধিবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক শহীদ উল আলম বলেন, ‘এলাকার খালগুলো ২/৩ বছর আগে সংস্কার হলেও বর্তমানে পরিচর্যার অভাবে কচুরিপানা ও পলি জমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এসব খাল জরুরিভিত্তিতে সংস্কার করা না হলে এলাকায় চিরদিনের মতো চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ’

পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড অথবা বিএডিসির কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। কৃষক যাতে বাধাহীনভাবে চাষাবাদ করতে পারেন, সে ব্যাপারে খতিয়ে দেখে যত দ্রুত সম্ভব পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেব। ’

 


মন্তব্য