kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খুনের আসামি ঘুরছে প্রকাশ্যে তবু ধরে না পুলিশ

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অপহরণ ও নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা হলেও আসামি ধরছে না পুলিশ। অথচ আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে।

এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ ওঠেছে, আসামি গ্রেপ্তার না করতে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের তদবির রয়েছে। তাই মামলা দায়েরের ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিরা রয়ে গেছে ধরা-ছোঁঁয়ার বাইরে।

পুলিশ বলেছে, ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনাটি রহস্যঘেরা। সঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর। এর পর আসামিদের ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ১২ আগস্ট রাতে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের হযরত শাহ ওমর (র.) মাজার এলাকার একটি পুকুরের পাশ থেকে ইউনিয়নের কসাইপাড়ার আমির হোসেনের ছেলে রুহুল কাদেরের (৫০) নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন একই সময়ে মাজার এলাকার মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় অপহরণ করা হয় তাঁকে। অপহরণ ও নিখোঁজের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর এলাকায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন। লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দেওয়া হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ১৬ আগস্ট রুহুল কাদেরের স্ত্রী ছায়েরা বেগম বাদী হয়ে উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশি অভিযোগ করলে শুনানির সময় বিচারক তা আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে নিতে থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলার আসামিরা হলেন কাকারা ইউনিয়নের খাদেমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন, মাজারের খাদেম মৌলানা ইদ্রিছ, জমির উদ্দিন, মারুফ, আবু মিয়া, আবদুল নবী, এনাম ও রিদুয়ান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১১ আগস্ট রাতে মাজার এলাকায় মাদক সেবনের সময় কিছু যুবককে বাধা দেন রুহুল কাদেরসহ স্থানীয়রা। এ সময় তাঁদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। অপহরণ করা হয় রুহুল কাদেরকে। অন্য দুই যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হলে তাঁরা গুরুতর আহত হন।

মামলার বাদী ছায়েরা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাজার এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় খাদেমের নির্দেশে আমার স্বামীকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অপহরণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে রাখে পুকুরপাড়ে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এর পর আদালতের শরণাপন্ন হই আমি। কিন্তু আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের তদবিরের কারণে হত্যায় জড়িতদের ধরছে না পুলিশ। ’

নিহতের স্বজনেরা জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর চকরিয়া বিজয়মঞ্চে আয়োজিত সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। ওই খুনের ঘটনায় জড়িত আসামিদের ধরতে ডিআইজির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক এ সংক্রান্ত অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তবে সঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসামিদের ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ তবে মামলার আসামিদের না ধরার বিষয়ে কারো চাপ নেই বলে দাবি করেন ওসি।


মন্তব্য