kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্গোৎসব

খরচ কমানো হচ্ছে মণ্ডপে

নূপুর দেব   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



খরচ কমানো হচ্ছে মণ্ডপে

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটছে শিল্পীদের। ছবিটি কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী সরস্বতীবাড়ি থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নগরীর আগ্রাবাদ গোসাইলডাঙা একতা গোষ্ঠীর দুর্গাপূজার মণ্ডপে গত বছর খরচ হয় ২০ লাখ টাকার বেশি। আর মনোমুগ্ধকর আকর্ষণীয় প্যান্ডেল তৈরিসহ পূজার প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় দুই মাস আগে।

মণ্ডপটি নগরে ‘সেরা মণ্ডপ’ হিসেবে প্রথম পুরস্কারও পেয়েছিল। কিন্তু এবার ওই মণ্ডপে ‘থিম পূজা’ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই গতবারের চেয়ে খরচ নেমে এসেছে অর্ধেকে।

জে এম সেন হল মাঠে গত বছর ভারতের দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের আদলে পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়। দুই মাস আগে কাজ শুরু হয়েছিল। গতবার ২৫ লাখ টাকা খরচ  হয়। এখানে ‘থিম পূজা’ না হলেও আনুষঙ্গিক মিলে খরচ বেশি হত। কিন্তু এবার সেখানে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা খরচ কমানো হয়েছে। আর এখনো মণ্ডপ তৈরির কাজও শুরু হয়নি।

শুধু নগরের অন্যতম প্রধান ওই দুটি পূজামণ্ডপে নয়, বেশির ভাগ মণ্ডপে গতবারের চেয়ে খরচ কমানো হচ্ছে। ১৬ থানায় এবার ২৮৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা হতে পারে বলে মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা জানান। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে দুর্গাপূজায় এবার ‘থিম’ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূজা পরিষদ। এছাড়া গত একযুগ ধরে নগরীর পূজামণ্ডপের মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয়সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পরিষদ ২৩টি পুরস্কার দিলেও এবার তা নেই।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষ সূচিত হবে। ৬ অক্টোবর শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর বোধন। ৭ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে। এদিন মহাষষ্ঠীপূজায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। পাঁচদিনব্যাপী এ উৎসব বিজয়া দশমীর দশমী বিহিতপূজা ও অঞ্জলি প্রদান শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ১১ অক্টোবর সম্পন্ন হবে এবারের দুর্গাপূজা।

জানা যায়, দুর্গাপূজা নিয়ে এখনো প্রশাসনের সঙ্গে উদ্যাপন পরিষদের নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক না হলেও প্রশাসন আসন্ন দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের লক্ষে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মহানগর ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ, উপজেলা ও থানা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে।

এদিকে পূজাকে ঘিরে বরাবরের মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দুর্গাপ্রতিমাসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। তবে নগরে ‘থিম পূজা’ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখনো মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়নি। কারণ ‘থিম পূজা’ করলে অনেক আগে থেকে প্যান্ডেল তৈরি করতে হয়। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে মণ্ডপ স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রত্নাকর দাশ টুনু গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগরের ২৫ থেকে ৩০টি পূজামণ্ডপে গত কয়েকবছর ধরে থিম পূজা হয়ে আসছে। এসব মণ্ডপে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় থাকে। যখন থিম চালানো হয় তখন মণ্ডপের ভিতরে আলোকসজ্জা কমিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পূজা করতে এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি থিম না করার। থিমসহ বিভিন্ন খাতে আগে অতিরিক্ত টাকা খরচ করা হত। তা এবার সাশ্রয় হবে। এসব টাকা সামাজিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করতে বলা হয়েছে। ’

একই পরিষদের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাশ বলেন, ‘এবার আমরা সাধ্যমতো পূজামণ্ডপগুলোতে নিজেদের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছি। তবে দুর্গাপূজা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই। আমরা সতর্ক কোনো অশুভ শক্তি যেন দুর্গোৎসবে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে। ’

একতা গোষ্ঠীর পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা অসিত কর বলেন, ‘মহানগর পূজা পরিষদের নেওয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবার আমরা থিম পূজা করছি না। মূর্তি ও প্যান্ডেল মিলিয়ে গতবার ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। এবার আমরা সেখানে ৬ লাখ টাকা কমিয়েছি। লাইটিংয়ে গতবার সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হলেও এবার খরচ হবে দুই লাখ। আমাদের মণ্ডপটি গতবার প্রথমসহ এ পর্যন্ত চারবার প্রথম ও একবার দ্বিতীয় হয়। ’

জানা যায়, নগরের ১৬ থানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ কোতোয়ালী থানায়। এখানে ৮৭টি মণ্ডপ রয়েছে। সবচেয়ে কম বাকলিয়ায় পাঁচটি।

চট্টগ্রাম জেলার ১৪ উপজেলায় এবারও ১৫০০ এর বেশি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুই শতাধিক মণ্ডপ রাউজানে। সবচেয়ে কম সন্দ্বীপে। সেখানে এ পর্যন্ত ২৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে বলে পূজা পরিষদের নেতারা জানান।

এদিকে আগামীকাল শুক্রবার ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সারাদেশ থেকে পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আসন্ন দুর্গাপূজা কীভাবে উদ্যাপন হবে সে ব্যাপারে সবাইকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল পালিত। তিনি চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদেরও সভাপতি। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দুর্গাপূজা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা হবে। ওই সভায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা চট্টগ্রাম জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে পালন করা হবে। ঢাকা থেকে এসে আমরা পূজামণ্ডপের প্রতিনিধি ও উপজেলা নেতাদের নিয়ে বৈঠক করব। ’

তিনি জানান, এবার পূজায় নগরের আন্দরকিল্লায় জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে। ইতোমধ্যে পূজামণ্ডপগুলোতে যেখানে বেশি লোকসমাগম হয় সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ চৌধুরীহাটের পূর্বদিকে এবারও সোয়া এক কিলোমিটার এলাকায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। এখানকার ফতেয়াবাদ পল্লী সংগঠন সমিতি মাঠে মণ্ডপে গতবার খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। এবার খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে মণ্ডপের আহবায়ক নটরাজ চৌধুরী জানান। তিনি বলেন, ‘এবার আমরা থিম করছি না। এ কারণে খরচ কমেছে। তবে গতবারের চেয়ে এবার সিসি ক্যামেরার সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে নিরাপত্তার স্বার্থে। কারণ আমাদের মণ্ডপে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী পূজা দেখতে আসেন। ’


মন্তব্য