kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত তামাক চাষিদের খোঁজ মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত তামাক চাষিদের খোঁজ মেলেনি

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী দোছড়ি ইউনিয়নের হায়দার ঝিরি এলাকা থেকে অপহৃত দুই তামাক চাষির সন্ধান এখনো মেলেনি।

সন্ত্রাসীরা গত শনিবার গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে খামার ঘর থেকে তাঁদের অপহরণ করে।

গত দুদিন ধরে পুলিশ ও বিজিবির টানা অভিযানেও তাঁরা কোথায়-কীভাবে আছেন, তা জানা যায়নি। কোনো পক্ষ এখনো অপহরণের দায় স্বীকার বা মুক্তিপণ দাবি করেনি।

সন্ত্রাসীরা শনিবার রাতে প্রথমে তিনজনকে অপহরণ করে হাত বেঁধে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে অপহরণকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (২৭)। গত রবিবার দুপুরে তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে ফিরে অপহরণের কথা জানান সবাইকে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ কবির জানান, বিজিবির সহায়তায় পুলিশ রবিবার বিকেল থেকে অভিযানে নেমেছে। তবে এই অভিযানে জানানোর মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি এখনো।

এদিকে অপহৃত তামাক চাষি আলী আকবর (৬৫) ও সামছুল আলমের (৩২) কোনো সন্ধান না পেয়ে তাঁদের আত্মীয়-স্বজন পাগলপ্রায়। তাঁরাও অপহরণকারীদের সাথে যোগাযোগের নানা পথ হাতড়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আবদুল্লাহ জানান, অপহরণকারীরা প্রথমে আটজন থাকলেও পরে সংখ্যায় বেড়ে ২০/২২ জন হয়েছে। এরা নিজেদের মধ্যে চাকমা ভাষায় কথা বলেছে। তবে অস্ত্রধারীদের মধ্যে একজন ত্রিপুরা এবং দুজন ম্রো যুবককেও তিনি দেখেছেন। তাদের সবার কাছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ছিল। সন্ত্রাসীদের কয়েকজন সামরিক ইউনিফরম এবং কয়েকজন জলপাই রঙের পোশাক পরিধান করেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা ও স্থানীয় সাংবাদিক এম এ হামিদ বলেন, ‘এর আগে নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রায় সব কটি অপহরণের মূল টার্গেট ছিল ডাকাতি বা মুক্তিপণ আদায়। রোহিঙ্গা বা মিয়ানমারের সরকারবিরোধী গেরিলা সন্ত্রাসীরা এসব অপহরণের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এবারই প্রথম চাকমা, ত্রিপুরা ও ম্রো যুবক সমন্বয়ে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এখনো তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। ’


মন্তব্য