kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

শরতে শীতের মুলা

জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শরতে শীতের মুলা

দোহাজারী রেলওয়ে মাঠে সবজির পাইকারি বাজারে মুলা বিক্রির ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শরতে পাওয়া যাচ্ছে শীতের সবজি মুলা। চন্দনাইশ-সাতকানিয়ার বুক চিরে প্রবাহিত শঙ্খ নদীর চরজুড়ে আগাম মুলাচাষ করেছেন অনেক কৃষক।

এবার বর্ষায় বৃষ্টির দাপট কিছুটা কম থাকায় আগাম চাষ করা মুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে চাহিদাও প্রচুর।

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ লোকমান হোসেন মজুমদার জানান, মুলা শীতকালীন সবজি হলেও দোহাজারীর লালুটিয়ারচর, চাগাচর, দিয়াকুলসহ বিভিন্ন এলাকায় শঙ্খ নদীর চরে প্রায় সারা বছর কম বেশি মুলাচাষ হয়। এখানকার কিছু কৃষক মে ও জুন মাসেও মুলা বিক্রি করেছেন। ওই সময়ের মুলা বিক্রি শেষ করে একই জমিতে আবার নতুনভাবে রোপণ করা মুলা এখন বিক্রি করছেন। এবার মুলা চাষিরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন।

ওই কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, এক সময় মুলা শুধু শীতকালীন সবজি ছিল। দেশে দুই জাতের মুলাচাষ হত। এখন বাজারে অনেক জাতের মুলা রয়েছে। যেগুলো প্রায় পুরো বছর চাষ করা যায়। মুলার উন্নত মানের কিছু জাত রয়েছে যেগুলো পানি জমে না থাকলে বৃষ্টি হলেও সমস্যা হয় না। এসব মুলা পানি শোষণের ক্ষমতা রাখে। তবে অতিমাত্রায় বৃষ্টি হলে এবং ক্ষেতে পানি জমে গেলে মুলা নষ্ট হয়ে যাবে। তখন কৃষক ক্ষতির শিকার হন।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় এখানকার অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আগাম চাষে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। এ জন্য অভিজ্ঞ ও সাহসী কৃষকই আগাম চাষ করতে পারেন। শীতের মৌসুমে চন্দনাইশে ৬০-৭০ হেক্টর জমিতে মুলাচাষ হলেও আগাম হয়েছে মাত্র ১০ হেক্টর। ’

সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়াইব মাহামুদ জানান, শঙ্খনদীর তীরবর্তী কিছু কৃষক অধিক লাভের আশায় শঙ্খ চরে আগাম মুলা চাষ করেছেন। কালিয়াইশ ও খাগরিয়ার মৈশামুড়ায় প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে মুলাচাষ হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো থাকায় চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, শঙ্খ নদীর চরজুড়ে আগাম মুলাচাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে দোহাজারীর লালুটিয়া, দিয়াকুল, চাগাচর, কালিয়াইশ ও মৈশামুড়া এলাকায় ব্যাপকভাবে মুলাচাষ করা হয়। কৃষক সারাদিন মুলা ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কারসহ নানা পরিচর্যা, মুলা তুলে নদীর পানিতে ধোয়া, আঁটি বাঁধা, নৌকাযোগে নদী দিয়ে এসব মুলা বাজারে নেওয়ার কাজে মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে আগাম চাষ করা মুলা বিক্রি শেষ করে একই জমি নতুনভাবে তৈরি করে আবার মুলার বীজ রোপণ করছেন।

দোহাজারীতে রেলওয়ের মাঠের পাইকারি সবজি বাজারে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত চলে সবজি বিক্রি। অন্য সবজির সাথে বাজারে প্রচুর পরিমাণ মুলাও আসছে। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকার এবং গ্রামীণ হাট-বাজারের সবজি বিক্রেতারা এখান থেকে মুলাসহ বিভিন্ন সবজি কিনে গাড়িযোগে নিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষক জানান, ১৫ দিন আগে প্রতিকেজি মুলা ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

সাতকানিয়ার কাটগড় এলাকার মুলাচাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি প্রতিবছর ৪-৫ কানি জমিতে মুলাচাষ করেন। এবার প্রায় দুই কানি জমিতে আগাম মুলাচাষ করেছেন। বর্ষার সময় বৃষ্টি কম থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে দামও পেয়েছি ভালো। একই জমিতে তিনি এখন নতুনভাবে মুলা চাষ করবেন। এছাড়া তিনি আরো ২-৩ কানি জমিতে মুলা রোপণ করেছেন। সেগুলো এখনো বিক্রির উপযোগী হয়নি।

পূর্ব দোহাজারী এলাকার কৃষক সাংবাদিক ফয়েজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লালুটিয়ার চরে তিনি এ বছর চার কানি জমিতে মুলাচাষ করেছেন। ফলন খুব ভালো হয়েছে। ’

গতবার আগাম মুলাচাষ করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল এই কৃষকের। তাঁর আশা, এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।


মন্তব্য