kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘বিশেষ’ পরীক্ষার নামে শিক্ষা কর্মকর্তার আয় লাখো টাকা!

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘বিশেষ’ পরীক্ষার নামে শিক্ষা কর্মকর্তার আয় লাখো টাকা!

‘বিশেষ পরীক্ষা পদ্ধতি’ চালু, শিক্ষকদের ‘বদলি বাণিজ্য’ এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজ থেকে কমিশন আদায়সহ নানা অভিযোগ ওঠেছে কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

শুধু ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ২ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘বিশেষ’ পরীক্ষাটির নামে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা ‘হাতিয়ে নেন’ ওই কর্মকর্তা।

তিনি অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করলেও তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি কক্সবাজারে যোগদান করেন।

একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে এ বি এম ছিদ্দিকুর রহমান যোগদানের পর থেকেই ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিমাসে ‘বিশেষ পরীক্ষা’ চালু করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা বহির্ভূত এবং নিজস্ব ধারণাপ্রসূত হওয়ায় শুরু থেকে শিক্ষকেরা ওই পরীক্ষা বাতিলের কথা জানিয়ে আসছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ‘আর্থিক ফায়দা’ লাভের উদ্দেশ্যে পরীক্ষাটি অব্যাহত রাখেন তিনি। প্রতিবার পরীক্ষায় জেলার ৬২২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৬ শিক্ষাথীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৪ টাকা হারে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ  টাকা আদায় করেন ওই কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তোলিত টাকার হিসাব-নিকাশে কাউকে কোনো জবাবদিহি করতে হয় না এই শিক্ষা কর্মকর্তাকে। ওই টাকা থেকে পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন ছাপানো বাবদ খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ করতে হয় না। আদায় করা টাকার অর্ধেকও যদি প্রশ্নপত্র ছাপাতে খরচ হয় অবশিষ্ট টাকার পুরোটাই তিনি ‘আত্মসাৎ’ করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন। এছাড়া নীতিমালা বহির্ভূতভাবে শিক্ষক বদলি, রেজি. স্কুলের প্যানেলভুক্ত শিক্ষকের নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে পছন্দসই স্কুলে যোগদান, জাতীয় স্কেলপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের অনিয়মের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে টাইমস্কেল অনুমোদন, স্কুলের সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকল্প থেকে কমিশন আদায়সহ আরো নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এদিকে মহেশখালী উপজেলায় সম্প্রতি ১৪ জন প্যানেলভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আট শিক্ষক ডেপুটেশনের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে পছন্দসই বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ ‘হাতিয়ে’ নিয়েছেন। এই কারণে এখানকার ১৪ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকেরা।  

ওই উপজেলার দক্ষিণ সাইরার ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মাবুদ বলেন, ‘সম্প্রতি নেসার উদ্দিন নামে একজন শিক্ষক এখানে যোগদান করার ১৭ দিনের মধ্যে অন্য স্কুলে বদলি হয়ে গেছেন। এতে স্কুলের ৪৬৬ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র তিন শিক্ষক দিয়ে। ’

অভিযোগ প্রসঙ্গে এ বি এম ছিদ্দিকুর রহমান গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্তরিক না হওয়ায় এবং সারা বছর শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যস্ত রাখতে বিশেষ পরীক্ষা পদ্ধতিটি চালু করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে। মাত্র চার টাকায় পরীক্ষা নিচ্ছি। আর পাসের হার শতভাগ। এতে ক্ষতি কী!’

ওই পরীক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত কি না?-প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশের কোথাও এটি চালু নেই। আর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও নেই এটা সত্য। তবে এ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী। ’

টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আদায় করা সব টাকাই পরীক্ষার কাজে খরচ হয়ে যায়। ’


মন্তব্য