kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের দাবি

মুহুরী-কহুয়া নদীর পাড়ের বাসিন্দারা ভাঙন আতঙ্কে

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে মুহুরী ও কহুয়া নদীর পানিতে গত এক মাসে তিনবার প্লাবিত হয়েছে পরশুরাম ও ফুলগাজীর ৩০ গ্রাম। মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের ৯টি স্থানে সৃষ্টি হয় ভাঙন।

এসব ভাঙন স্থায়ীভাবে মেরামত না করায় আতঙ্কে রয়েছেন ফেনীর উত্তরাঞ্চলের মুহুরী-কহুয়া নদী পাড়ের দুই লক্ষাধিক মানুষ। তাঁদের দাবি, স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে টানা বর্ষণ ও ভারতের

পাহাড়ি ঢলের পানিতে মুহুরী উত্তর শালধর, দক্ষিণ শালধর, উত্তর দৌলতপুর, কিসমতঘনিয়া মোড়াসহ ৯টি অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে পরশুরাম উপজেলার কালিকৃষ্ণনগর, কোলাপাড়া, বেড়াবাড়িয়া, বাউরখুমা, খোন্দকিয়া, অলকা, নোয়াপুর, দুর্গাপুর, মালিপাথর, রাজষপুর, উত্তর শালধর, দক্ষিণ শালধর সাতকুচিয়া, রামপুর, ধনীকুন্ডা, ফুলগাজী উপজেলার পশ্চিম ঘনিয়ামোড়া, পূর্ব ঘনিয়া মোড়া, জয়পুর, সাহাপাড়া, বৈরাগপুর, বিজয়পুর, বরইয়া, দক্ষিণ দৌলতপুর, উত্তর দৌলতপুর, পেচিবাড়িয়া, কুহুমাসহ প্রায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ভেসে গেছে কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ও সবজিক্ষেত। পানিতে পচে গেছে ১০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পর আবারও বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে মুহুরী-কহুয়া নদী পাড়ের বাসিন্দাদের।

জানা গেছে, পরশুরামের ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া  নদী। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার প্রায় ৪০ গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে নদী তিনটি। তিন দফা বন্যায় মানুষ আবারও বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ফুলগাজীর দক্ষিণ দৌলতপুর, বরইয়া, জগতপুর ও পরশুরামের শালধরসহ বিভিন্ন স্থানের বেড়িবাঁধে ফাটল ও বাঁধ ভেঙে ধসে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। দেখা দিয়েছে মুহুরী কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে এসব বেড়িবাঁধ। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট মুহুরী নদীর উত্তর শালধর, উত্তর দৌলতপুর, কিসমতঘনিয়া মোড়া অংশে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়। ভাঙন কবলিত এসব বেড়িবাঁধ এখনো মেরামত না করায় সামান্য বৃষ্টি হলে পানিতে প্লাবিত হচ্ছে আশপাশের গ্রামগুলো।

চিথলিয়া ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন মোল্লা জানান, তিন দফা বন্যায় উত্তর শালধর, রাজষপুর, মালিপাথর পানিতে তলিয়ে যায়। নিয়মিত এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তাঁরা সরকারের কাছে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধ তৈরির সময় নদী থেকে উত্তোলিত বালু ব্যবহার করা হয়েছে। বেড়িবাঁধের গোড়া থেকে বালু উত্তোলন করে বাঁধ নির্মাণ করায় বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে বাঁধ ভেঙে পুনরায় গর্ত তৈরি হচ্ছে ও ফাটল দেখা দিচ্ছে। সিডিউল মতো মাটি না দেওয়া ও দায়সারাভাবে কাজ করায় বেড়িবাঁধের  বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিচ্ছে।

পশ্চিম ঘনিয়া মোড়া গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, বৃষ্টি হলেই কিসমতঘনিয়া মোড়া গ্রামের মুহুরী নদীর ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢোকায় আশপাশের গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েন কয়েক হাজার মানুষ।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম জানান, মুহুরী-কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধে যাতে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পানি কমে গেলে বেড়িবাঁধের ভাঙন কবলিত অংশগুলো মেরামত করা হবে।


মন্তব্য