kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চকরিয়ায় পাঁচ স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই সংগ্রহ পাঁচ লাখ টাকা

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই সংগ্রহ পাঁচ লাখ টাকা

গতকাল করাইয়াঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হয়েছে ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম। গতকাল শনিবার ওই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

এর মধ্য দিয়ে এসব বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিদিন বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার পাবে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম চালুর প্রথম দিনেই বিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতিরা স্ব স্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য অনুদান হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের হাতে তাঁরা ওই টাকার চেক তুলে দেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে মতবিনিময় এবং পাঁচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু। এছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নেতা, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল শনিবার থেকে ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম চালু হওয়া পালাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম ১ লাখ টাকা, করাইয়াঘোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ও পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরী ১ লাখ টাকা, চিরিঙ্গা বার্মিজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা বিসিআইসির সভাপতি ফজল করিম ১ লাখ টাকা, উত্তর সুরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম ১ লাখ টাকা এবং চিরিঙ্গা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পৌরসভার কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেন বিদ্যালয়ের তহবিলে।

চিরিঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তছলিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, গতকাল শনিবার থেকে বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম চালু হয়েছে। এতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৩৮৬ জন ছাত্রছাত্রী সপ্তাহের ছয়দিন দুপুরের খাবার পাবে।

ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অলক চৌধুরী, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী পায়েস, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রবিউল হাসান ও ফাতেমা তাহসিন কালের কণ্ঠকে বলেছে, এতদিন ধরে বিদ্যালয়ে এসে দুপুরে না খেয়ে থাকতে হতো। এতে ক্ষুধার জ্বালায় পড়ালেখায় মন বসাতে কষ্টসাধ্য ছিল। এখন থেকে প্রতিদিন দুপুরে খাবার পাব, সে যে কি খুশি লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না।

এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা জানান, সপ্তাহের ছয় দিনই শিক্ষার্থীদের দুপুরে খাবার দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে একেকদিন সবজি বিরানি, খিচুড়ি, ডাল-ভাতসহ নানা আইটেমের খাবার দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাহেদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এসব বিদ্যালয়ের পাঁচজন পৃষ্ঠপোষক ও সভাপতি ১ লাখ টাকা করে বিদ্যালয়ের তহবিলে প্রদান করেছেন। তাঁরা আরো ১ লাখ টাকা করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। একইভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে যাতে একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা যায় সেজন্য তিনি কাজ করছেন।

ইউএনও বলেন, ‘প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংকে হিসাব খোলা হবে। ওই হিসাবে মিড ডে মিলের বিপরীতে প্রাপ্ত অনুদানের টাকা জমা রাখা হবে। আর আমার অনুমোদনেই এই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে খরচ করা হবে কার্যক্রমের জন্য। ’

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, ‘দেশ এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই শিক্ষার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোনিবেশ যাতে থাকে এবং ঝরে পড়া রোধ করতে বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই আলোকে পাঁচ বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়েছে চকরিয়ায়। ’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে এ জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। ’


মন্তব্য