kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গুচ্ছগ্রামের পাহাড় কেটে বাণিজ্য

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গুচ্ছগ্রামের পাহাড় কেটে বাণিজ্য

বাঁশখালীর বৈলছড়িতে প্রকাশ্যে চলছে পাহাড় কাটা। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের জঙ্গল চেচুরিয়া গুচ্ছগ্রামে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয় ৭৫টি ভূমিহীন পরিবার প্রশাসনের কাছে দফায় দফায় অভিযোগ করেও সরকারের দেওয়া ওই পাহাড়ি এলাকার ঘরবাড়ি ও বসতভিটা রক্ষা করতে পারছেন না।

গতকাল শনিবার সকালে পাহাড় কাটার সময় গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় প্রভাবশালীদের লোকজন। হামলায় আহত হয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুচ (৪৮) ও মোহাম্মদ আনোয়ার (২৭)।

গুচ্ছগ্রামের আবুল কাশেম, আব্দুল লতিফ, মফিজুর রহমান, আনোয়ার, ইউনুচসহ অনেকে জানান, সরকার ১৯৮৮ সালে ২২টি ভূমিহীন পরিবার নিয়ে চেচুরিয়া গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করে জঙ্গল চেচুরিয়া পাহাড়ি এলাকায়। এসব পরিবার বেড়ে এখন হয়েছে ৮৫ পরিবার। এদের মধ্যে অন্তত ১০ পরিবারের নানা কর্মকাণ্ডে গুচ্ছগ্রামের অন্য বাসিন্দাদের ভোগান্তির শেষ নেই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগী হাসন আলী-লেদু-মোহাম্মদ আলমের সহযোগিতায় গুচ্ছগ্রামের পাহাড় কেটে সমতল করে ফেলা হচ্ছে। প্রতিট্রাক মাটি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। যততত্র পাহাড় কাটায় বহু বাড়িঘর হুমকির মুখে। এছাড়া পাহাড়ি মাটি ধসে রাস্তাঘাট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার বসতঘর ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করেই দায়িত্ব শেষ করে! দুর্বৃত্তরা বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকার মাটি কেটে নিয়ে গেলেও প্রশাসনের কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেই। ফলে পুরো গুচ্ছগ্রাম হুমকিতে রয়েছে। ’

গতকাল শনিবার পাহাড়ের মাটি বিক্রেতা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, ‘অন্যরা বিক্রি করছে তাই আমিও বিক্রি করছি। মাটি বিক্রি করে কিছু টাকা পাচ্ছি। তাই হিংসায় অন্যরা অভিযোগ করছে। ’

অভিযোগ প্রসঙ্গে বৈলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম বিন খলিল বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামে মাটি কাটার ব্যাপারে আমাকে জড়ানোর বিষয়টি দুঃখজনক। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল হাসান বলেন, ‘চেচুরিয়া গুচ্ছগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় মাটি কাটার ব্যাপারে আমি যোগদানের পর কেউ অভিযোগ করেনি। এর পরও বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ’


মন্তব্য