kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঈদের ছুটি

পর্যটকের অপেক্ষায় কক্সবাজার

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বর্ষা মৌসুমে পর্যটনব্যবসা তেমন ভালো না হওয়ায় ঈদের ছুটিতে পর্যটকের অপেক্ষায় রয়েছে পর্যটননগরী কক্সবাজার। অন্য বছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসবেন বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

কোরবানির পশু কেনায় লোকজন ব্যস্ত সময় পার করলেও এরই মধ্যে বেশ কিছু পর্যটক এসে গেছেন কক্সবাজারে। চোখে পড়েছে কিছু বিদেশিও। আর পর্যটকের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

গতকাল শনিবার সকালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বেশ কিছু বিদেশি পর্যটক দেখা গেছে। তাঁরা দল বেঁধে ব্যস্ত আনন্দ-ফুর্তিতে। এ সময় ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল এসব পর্যটকের অদূরে অবস্থান নিয়ে তাঁদের নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্যুরিস্ট পুলিশের একজন সদস্য জানান, বিদেশি পর্যটকদের সৈকতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার কাজে পুলিশ কাজ করছে। সেই সাথে দেশীয় পর্যটকদের নিরাপত্তার দিকও দেখা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সাগরপাড়ের হোটেল-মোটেল জোন ও সৈকত এলাকা অনেকটা ফাঁকা। তবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে পর্যটনের এমন অমৌসুমেও কিছু পর্যটক সাম্প্রতিক সময়ে বেড়াতে আসনে কক্সবাজারে। তবে কোরবানির ঈদের দীর্ঘ ছুটি পেয়ে ভ্রমণপিপাসু লোকজনের কক্সবাজারে আসা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীরা ছুটি কাটাতে আসছেন এখানে।

কলাতলী মোটেল জোনের অভিজাত খাবার হোটেল নিরিবিলি অর্কিডের ফ্রন্টডেস্ক ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন জানান, গত শুক্রবার দুপুরে শতাধিক পযর্টক তাঁর হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী। এছাড়া তিন সদস্যের ভারতীয় পর্যটক দল দুপুরে চাইনিজ খাবার না পেয়ে ওই হোটেল থেকে অন্য হোটেলেও যাওয়ার কথা জানান।

সৈকতের লাবণী পয়েন্টের ছাতা মার্কেটের দোকানি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এমনিতে বর্ষায় সৈকতে পর্যটকের আগমন কম। বেচাবিক্রিও কমে গেছে। আশা করছি ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। ’

তবে ঈদের পরদিন থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামবে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল মালিকরা। কক্সবাজারের অভিজাত হোটেল সিগাল, কক্সটুডে, ওসান প্যারাডাইস, লংবিচের মতো তারকা হোটেলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এসব হোটেলে অবশ্য গত কদিন ধরে বেশ কিছু বিদেশি পর্যটকও উঠেছেন।

জানা গেছে, বিদেশি পর্যটকরা ঝঞ্জাটমুক্ত কক্সবাজারের সৌন্দর্য ভালোই উপভোগ করছেন। অনেকে ঘুরছেন হিমছড়ি-ইনানীর মতো স্থানগুলোতে।

হোটেল সিগালের প্রধান নির্বাহী ইমরুল সিদ্দিকী রুমী কালের কণ্ঠকে জানান, ঈদের ছুটিতে সপ্তাহ খানেকের জন্য হোটেলের প্রায় বেশিরভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

এদিকে কক্সবাজার গেস্টহাউস ও কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, কক্সবাজারে হোটেল মোটেল, কটেজ, গেস্টহাউস, ফ্ল্যাট বাড়ি, ইকো হাউস ও সরকারি-আধাসরকারি রেস্ট হাউসের সংখ্যা চার শতাধিক। এসব হোটেলে অনায়াসে লক্ষাধিক পর্যটক প্রতিদিন অবস্থান করতে পারেন।

তাঁর আশা, ঈদুল আজহার পরে আগামী ১৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক পর্যটক অবস্থান করবেন। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলের শতকরা ৮০ ভাগ বুকিং হয়ে গেছে। তবে কটেজসহ ছোট আবাসিক হোটেলের রুম এখনো ভাড়া হয়নি।

এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ফজলে রাব্বি জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে কক্সবাজারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের পাহারা থাকবে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থাকবে।


মন্তব্য