kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাড়ে পাঁচ লাখ পশু কোরবানি চট্টগ্রামে

শিমুল নজরুল   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাড়ে পাঁচ লাখ পশু কোরবানি চট্টগ্রামে

বৃহত্তর চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে সাড়ে পাঁচ লাখ পশু কোরবানি দেওয়া হবে এবার কোরবানির ঈদে। এসব এলাকার সব কটি গবাদি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা যাবে বলে আশা করছে কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতি।

এর মধ্যে গরুর চামড়া প্রায় সাড়ে চার লাখ। ছাগলের চামড়া পাওয়া যাবে প্রায় এক লাখ। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ১২ হাজার ভেড়া ও মহিষের চামড়া।

গত বছর পাঁচ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও সংগ্রহ হয় প্রায় সাড়ে চার লাখ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের সব ট্যানারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রামের চামড়ার আড়তদাররা।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির নেতারা জানান, ২০১৪ সালে সারা দেশে প্রায় ৩০ কোটি বর্গফুট গবাদি পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল। এর আগের বছর সংগ্রহ হয়েছিল ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া। আর গত বছর সংগ্রহ হয়েছিল ৩৬ কোটি বর্গফুট। এবার চামড়া আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি মুসলিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার কোরবানিতে প্রায় সাড়ে চার লাখ গরু, এক লাখের বেশি ছাগল এবং ১২ হাজারের মতো ভেড়া ও মহিষের চামড়া সংগ্রহ হবে বলে আশা করছি। কিন্তু এর সবটা বিক্রির জন্য আমাদের ঢাকার ট্যানারিগুলোর ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। কারণ ঢাকায় ১৫৪টি ট্যানারি থাকলেও চট্টগ্রামে কোনো ট্যানারি নেই। এখন ট্যানারি না থাকায় ঢাকার ব্যবসায়ীদের চাহিদা মতো দামে চামড়া বিক্রি করতে হবে। ’

এই ব্যবসায়ী নেতা আরো বলেন, ‘গত বছর চামড়ার প্রায় ২৫ শতাংশ দাম আমরা এখনো বিভিন্ন ট্যানারি থেকে বুঝে পাইনি। এর ওপর এবার দাম আরও কমে গেছে। কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে। ফলে এ পেশার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত চট্টগ্রামের ২৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আছি। ’

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতি নেতৃবৃন্দ জানান, চলতি বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুট ওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার ক্রয়মূল্য ৫০টাকা, অন্যান্য জেলায় ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

২০১৫ সালে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার ক্রয়মূল্য ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং অন্য জেলায় ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, কোরবানির গবাদি পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের জন্য নগরীর আতুরার ডিপো থেকে হামজারবাগ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপকভাবে আগাম প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া নগরীর আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, দেওয়ানহাট, অলংকার মোড়, নয়াবাজার মোড়, কালুরঘাট, বাকলিয়া, চকবাজার, সিইপিজেড মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে অস্থায়ী আড়ত গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।

কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতি নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা লবণযুক্ত প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তাই আমাদেরকে আরো কম দামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে হবে। এর পর প্রক্রিয়াজাত ও লবণযুক্ত করে বিক্রি করতে হবে।

চট্টগ্রামের চামড়া আড়তদাররা বলেন, চামড়া সংগ্রহের মৌসুমকে পুঁজি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লবণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। গত বছর কোরবানির ঈদের আগে ৭৪ কেজির বস্তাপ্রতি লবণ বিক্রি হয়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০টাকা দরে। আর এ বছর লবণের বস্তা কিনতে হচ্ছে ১২০০ টাকা দরে। এতে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে আমাদের খরচ বেড়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চামড়া ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রামে ট্যানারি না থাকায় ঢাকার ট্যানারি মালিকদের ইচ্ছেমতো দামে আমাদেরকে চামড়া বিক্রি করতে হয়। তাঁরা ন্যায্য দাম দিতে চায়। ১০০ চামড়ার মধ্যে ১৫-২০ শতাংশ টাকা কম দেওয়া এবং প্রতি চামড়ায় নষ্টের অজুহাতে এক-দুই ফুট কমিয়ে হিসাব করেন তাঁরা। ট্যানারি না থাকায় আমাদের বাধ্য হয়ে তাঁদের প্রস্তাবিত দামে চামড়া বিক্রি করতে হয়। না হয় ঢাকায় গিয়ে চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে যাতায়াত খরচসহ আরও নানা আনুষঙ্গিক খরচ পড়ে যায়।


মন্তব্য