kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গরুর দাম পেতে গোঁ ধরে আছেন বেপারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গরুর দাম পেতে গোঁ ধরে আছেন বেপারিরা

নিজাম ইউ আহমেদ নামে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের একজন নির্বাহী গতকাল শনিবার নগরীর বিবিরহাটে গরু কিনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পশুর দাম আশানুরূপ না হওয়ায় খালি হাতে ফেরত আসেন।

শুধু তিনি নন, এমন অবস্থা অনেক ক্রেতার। তাঁরা বলছেন, পশুর দাম পেতে গোঁ ধরে আছেন

বেপারিরা। তবে ক্রেতাদের মতে, গরু কেনার এখনো সময় আছে। বিক্রেতারা দাম কমাতে বাধ্য হবেন।

হাটবার উপলক্ষে শনিবার বিবিরহাটে ছিল ক্রেতার উপচেপড়া ভিড়। এ কারণে গরু বেপারিদেরও যেন পোয়াবারো অবস্থা! তাই গরুর দাম হাঁকছেন বেশি।

নিজাম ইউ আহমেদ বলেন, ‘হাটে প্রচুর গরু কিন্তু বেপারিরা দাম ধরে রেখেছেন। যে গরু ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার উপযুক্ত, সেই গরুর দাম এক লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নামছেন না বেপারিরা। ’

আর একদিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ ঘিরে প্রতিদিন বন্দরনগরীতে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি গরুবাহী ট্রাক আসছে। হাটে মাঝারি গরুর ক্রেতা বেশি থাকলেও লাখ টাকার দামি গরুর ক্রেতাও কম নয়। কিছুদিন আগেও

বেপারিরা এবার কোরবানির ঈদে গরুর সংকটের আভাস দিলেও গতকাল শনিবারের চিত্র ছিল উল্টো। দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে প্রচুর গরু আসছে হাটে। সর্বত্র ‘ঠাঁই নেই’ অবস্থা।

সাগরিকা গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাকের পর ট্রাক বোঝাই করে কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, বেনাপোলের পুটখালীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এবং কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত থেকে চট্টগ্রামে গরু আসছে।

ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামের সাগরিকা গরুর হাটে ঝিনাইদহের হরিণাগঞ্জ থেকে এক গরু বেপারি ১০টি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। একেকটির দাম হাঁকা হচ্ছে চার থেকে ছয় লাখ টাকা। তবে ক্রেতারা দর কষাকষি করছেন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে কিনতে। কিন্তু সায় মেলেনি গরু বেপারি আবদুল কাদেরের। পাঁচ লাখ টাকার নিচে কোনো মতেই গরু বিক্রি করতে নারাজ তিনি।

চুয়াডাঙা থেকে আলী আকবর বেপারি ১৫টি গরু নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম এসেছেন। ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে একেকটি গরুর দাম। গত দুই দিনে অপেক্ষাকৃত ছোট পাঁচটি গরু বিক্রি হয়েছে তাঁর।

সাগরিকা গরুর হাটের উত্তর প্রান্তজুড়ে রয়েছে কুষ্টিয়া থেকে আনা বিশাল আকৃতির গরুর সমাহার। আকার ও রংয়ের বৈচিত্র্যের কারণে এসব গরু ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করছে।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার বিবিরহাটের সাপ্তাহিক হাটবার। এর পরও সাগরিকা হাটে ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বড় আকৃতির দেশি গরু আনা হয়েছে সাগরিকা হাটে।

সাতকানিয়ার গরু বেপারি আবদুর রহিম জানান, সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের গরুর বিশেষ কদর রয়েছে বাজারে। বিশেষ করে লাল জাতের ষাঁড়ের ক্রেতা বেশি।  

ক্রেতারা জানান, এখনো গবাদি পশুর দাম ধরে রেখেছেন বিক্রেতারা। হয়তো আগামীকাল সোমবার থেকে দাম কমে আসবে। কারণ হাটে অনেক গরু এসেছে।

হাটে আসা গরু বেপারিরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের কারণে গরুবাহী ট্রাক রাস্তায় আটকে আছে। গরুর গাড়ি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুদিন।

সুনাম হারিয়ে ফেলছে সরকারহাট : ন্যায্য মূল্যে কোরবানির গরুর জন্য সুখ্যাতি পাওয়া আনোয়ারার সরকারহাট এবার সেই সুনাম হারিয়ে ফেলেছে। নানা অব্যবস্থাপনা সেখানে বাসা বেঁধেছে। একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। গরুর দাম বাড়াতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেয় এরা। খামারিদের কাছ থেকে জোর করে কম দামে গরু কিনে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে ওই সিন্ডিকেট।

চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা থেকে সেখানে গরু কিনতে যাওয়া মতিউর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই হাট থেকে কোরবানির গরু কিনি। আগে এখানে কোনো হাসিল ছিল না। এখন গরুপ্রতি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা দিতে হয়। পাশাপাশি গরু গাড়িতে তোলার জন্য আগে নেওয়া হত ২০ থেকে ৫০ টাকা। এবার দিতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০!’

তিনি জানান, এবার সরকারহাটে ক্রেতারা অনেক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।

স্থানীয় এক গরু বিক্রেতা দুঃখ করে বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্টে গরুগুলো লালন-পালন করে থাকি একটু লাভের আশায়। শহর থেকে লোকজন আসলে তাঁদের কাছে ভালো দামে বিক্রি করতে পাারি। কিন্তু ইদানীং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর চাপে আমাদের গরুগুলো চাহিদার চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। ওরা কম দাম দিয়ে কিনে শহরের লোকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে। ’

রাহাত্তরপুল থেকে আসা ক্রেতা সামশুল আলম মিঞা বলেন, ‘কম দামে গরু পাওয়া যায় বলে প্রতিবছর সরকারহাটে ছুটে আসি আমরা। কিন্তু এবার যে অরাজকতা শুরু হয়েছে ভবিষ্যতে মনে হয় না আর আসতে পারব। ’


মন্তব্য