kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বানের স্রোতের মতো নগর ছাড়ছে মানুষ

নূপুর দেব   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বানের স্রোতের মতো নগর ছাড়ছে মানুষ

ট্রেনে জায়গা না পেয়ে ছাদে উঠছে যাত্রী। ছবিটি চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে গতকাল বিকেলে তোলা। ছবি : রবি শংকর

কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। তাই নাড়ির টানে স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে বানের স্রোতের মতো নগর ছাড়ছে মানুষ।

গ্রামের বাড়ি যেতে রেল, সড়ক ও নৌপথে মানুষ আর মানুষ। কোনো বাহন খালি নেই, ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থা। সর্বত্র উপচেপড়া ভিড়। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ মানুষ চট্টগ্রাম ছেড়েছেন। আজ রবিবারও অনেকে বাড়ি যাবেন। ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বন্দরনগরী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ করতে যাচ্ছেন ৮ থেকে ৯ লাখ মানুষ। এর মধ্যে বেশির ভাগ নগরবাসী গত তিন দিনে চট্টগ্রাম ছেড়েছেন।

এবারও সড়ক পথে যাচ্ছেন সর্বোচ্চ ছয় থেকে সাত লাখ মানুষ। আর রেলপথে লক্ষাধিক। রেলপথের প্রায় অর্ধেক যাত্রী দাঁড়িয়ে ও ছাদে বসে গন্তব্যে যাচ্ছেন। নৌপথে যাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। ঈদের আগে গত বৃহস্পতিবার ছিল সরকারি শেষ কর্মদিবস। ওই দিন দুপুরের পর থেকে বাড়িমুখী হয়েছেন অনেকে। গতকাল শনিবার সবচেয়ে বেশি মানুষ নগরী ছেড়েছেন। আজ-কালের মধ্যে অবশিষ্ট মানুষও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। গত তিনদিন দূরপাল্লার গাড়িগুলোতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কারণে মানুষ কষ্ট পেলেও গতকাল সড়ক মহাসড়কগুলোতে তেমন যানজট ছিল না। তবে আগের তিন দিনের যানজটের প্রভাব কিছুটা ছিল। গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় যাত্রীরা কিছুটা দুর্ভোগের শিকার হন। নানা দুর্ভোগের মধ্যও সবার চোখেমুখে ছিল খুশির যাত্রা।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ দিন আগে আন্তনগর ও স্পেশাল ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়েছিল। ঈদের আগাম টিকিট নিয়ে গত চারদিন ধরে প্রতিদিন চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ১৮ থেকে ২০ হাজার যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে গেছেন। ৯টি আন্তনগর, একটি মেইল এক্সপ্রেস, দুটি ঈদ স্পেশালসহ এবার চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ২১টি ট্রেনে সিলেট, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা যাচ্ছেন। শনিবার রেলপথের চাপ অনেকটা শেষ। রবিবার ও সোমবার চাপ একটু কম থাকতে পারে। তবে আমাদের যাত্রী পরিবহনে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ’

আন্তজিলা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঈদের লম্বা ছুটির কারণে ইতোমধ্যে বেশির ভাগ মানুষ সড়কপথে বাড়ি চলে গেছেন। শনিবার ও রবিবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ হাজার যাত্রী চট্টগ্রাম ছাড়তে পারেন। আমাদের হিসাব অনুযায়ী চট্টগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ যাচ্ছেন ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ভোলা ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়া দেশের অন্যান্য গন্তব্যেও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চট্টগ্রাম ছাড়ছেন। দূরপাল্লার হাজারো যানবাহন করে এবার চার লাখ সাড়ে চার লাখ মানুষ চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘শনিবার সবচেয়ে বেশি মানুষ উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে গেছেন অক্সিজেন অস্থায়ী স্টেশন থেকে। গত চার দিনে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বাড়ি গেছেন। রবি ও সোমবার আরো ২০/৩০ হাজার মানুষ বাড়ি যেতে পারেন। ’

তিনি জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও কক্সবাজার এবং বান্দরবান জেলায় নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল ও নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে বিভিন্ন বাসে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন। ঈদ উপলক্ষে এসব এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে এক থেকে সোয়া এক লাখ মানুষ বাড়ি যাবেন।

এদিকে গতকাল শনিবার নগরের অলংকার, কর্নেলহাট, কদমতলী, গরীবউল্লাহ মাজার গেট, ইপিজেড, সিনেমা প্যালেস, স্টেশন রোড, বিআরটিসিসহ অস্থায়ী ১৫টি স্টেশন থেকে কয়েকশ’ বাস দূরপাল্লার বিভিন্ন গন্তব্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে। সকাল থেকে এসব বাসস্টেশন ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

আহমেদ হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘যানজটের কারণে গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় অলংকারে বাসের জন্য দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। এর পরও ভালো লাগছে বাড়ি যেতে পেরে। ঈদে আমাদের পরিবারের সাতজন বাড়ি যাচ্ছি। ঢাকায় ঈদ করব। ’

জসিমউদ্দিন নামে এক গার্মেন্টকর্মী বলেন, ‘আজকে অফিস ছুটি দিয়েছে। লম্বা ছুটি পেয়ে কুমিল্লায় যাচ্ছি বাড়িতে। শহরের কয়েকটি স্থানে যানজটে পড়েছিলাম। আমরা দামপাড়া থেকে বাসে ওঠেছি। ’

এভাবে যাত্রীদের কারো মুখে ছিল হাসি, আবার কারো মুখে ছিল দুর্ভোগের চিত্র। তবে সবাই বাড়ি যেতে পেরে খুশির আমেজে ছিলেন।

এদিকে গতকাল থেকে নগরের বিভিন্ন সড়ক ফাঁকা হয়ে গেছে। অনেকে বাড়ি চলে যাওয়া এবং অফিস-আদালত ছুটি থাকায় ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। যেসব গার্মেন্ট ছুটি হয়নি আগে সেগুলোও শনিবার ছুটি হয়েছে। এ কারণে বিকেল থেকে স্টেশনগুলো লোকে লোকারণ্য। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে আবার চট্টগ্রাম আসছেন ঈদ করতে। ঈদের আগেই ফাঁকা হয়ে যাবে নগর। সর্বত্র ঈদআনন্দ। তবে শেষ মুহূর্তে বেশি মানুষের বাড়ি যাওয়াকে পুঁজি করে চলছে বিভিন্ন যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।

 


মন্তব্য