kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাটে বিপুলসংখ্যক পশু

দাম কমার অপেক্ষায় ক্রেতারা

শিমুল নজরুল   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দাম কমার অপেক্ষায় ক্রেতারা

দেশের নানা প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামে গরু আসা অব্যাহত রয়েছে। ছবিটি বিবিরহাট থেকে গত মঙ্গলবার রাতে তোলা। ছবি : রবি শংকর

নগরীর পশুর হাটগুলোতে বিপুলসংখ্যক গরু, মহিষ ও ছাগল রয়েছে। কিন্তু বেচাবিক্রি এখনো জমে ওঠেনি।

অল্প-স্বল্প ক্রেতার দেখা মিললেও বেশির ভাগই পছন্দের পশুর দাম পরখ করে দেখছেন। দাম কিছুটা বাড়তি মনে হওয়ায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান ক্রেতারা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামীকাল শুক্রবার থেকে হাটগুলো জমে ওঠবে পুরোদমে।

নগরীর বিবিরহাটে গরু কিনতে আসা চকবাজারের বাসিন্দা মঞ্জুর মোর্শেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেপারিরা এখনো বাড়তি দামের জন্য গো ধরে আছেন। ’

তবে শেষ মুহূর্তে তাঁরা স্বাভাবিক দরে নেমে আসতে বাধ্য হবেন-এমনটিই দাবি এই ক্রেতার। তিনি জানান, এমনিতেই নগরীর বাসিন্দাদের কোরবানির পশু রাখার জন্য স্থান সংকট রয়েছে। তাই এত আগে অনেকে পশু কিনতে আগ্রহী নন। ঈদের ২/৩দিন আগে শহরের ক্রেতারা পশু কিনতে শুরু করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে পশুর দামও কমবে। ’

এদিকে চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রামে দুই হাজারের বেশি খামারি গবাদি পশু লালন-পালন করেছেন। আর এসব খামারে প্রায় সোয়া তিন লাখ দেশি জাতের গরু রয়েছে।

গতকাল বিকেলে সাগরিকা ও বিবিরহাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি ঈদের আর মাত্র পাঁচদিন বাকি থাকলেও পশুর হাটগুলোতে জমে ওঠেনি পশুবিক্রি। তবে বিক্রির উদ্দেশ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে হাজির বেপারিরা। শত শত পশুবাহী ট্রাক হাটগুলোর সামনে অবস্থান করছে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত হাটে ক্রেতাদের তেমন ভিড় না থাকায় পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়েই অনেকে বড় বড় গরু দেখতে এসেছেন পশুর হাটে। পছন্দ হলেও না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দামের জন্য বেপারিরা গো ধরে আছেন বলে জানালেন আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিকের নুরুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের প্রধান পশুর হাট সাগরিকা গরুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। এবার দেশীয় গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ’

অত্যধিক দাম হাঁকানোর কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকের তুলনায় ২/৪ হাজার টাকা বাড়তি দামতো সবাই পেতে চাইবেই। এর বেশি কিছু নয়। ’ এখনো বেচাকেনা শুরু হয়নি জানিয়ে তিনি জানান, শুক্রবার নাগাদ বিক্রি শুরু হবে। তবে এখন বাজার ঘুরতে এসে দরদামে পছন্দ হলে কেউ কেউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

এদিকে পশুর হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন ও টাকা লেনদেনের জন্য ব্যাংকের বুথ স্থাপন, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।


মন্তব্য