kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বন্যায় ক্ষতবিক্ষত সড়ক এবার ভাঙনের মুখে

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বন্যায় ক্ষতবিক্ষত সড়ক এবার ভাঙনের মুখে

চকরিয়ার কোনাখালী-বদরখালী সড়কে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলার চিরিঙ্গা-জনতা মার্কেট-কোনাখালী-বাঘগুজারা-বদরখালী সড়ক একের পর এক বন্যায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। বেহাল সড়কটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

এই অবস্থায় কোনাখালীর একাধিক স্থানে সড়কের বিশাল অংশ মাতামুহুরী নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সড়কটি মূলত মাতামুহুরী নদীর তীর তথা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধ। বাঁধটি সড়ক হিসেবে ব্যবহার এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০০৪ ও ২০০৯ সালে দুই দফায় সড়কটিতে পিচ ঢালাই দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু এর পর থেকে সড়কটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে রয়েছে। এরই মধ্যে একাধিক ভয়াবহ বন্যায় সড়কটি ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের চিরিঙ্গা-জনতা মার্কেট হয়ে কোনাখালী ইউনিয়ন পর্যন্ত মোটামুটি চলাচল উপযোগী রয়েছে। কিন্তু কোনাখালীর বাঘগুজারার মাতামুহুরী নদীর সেতু থেকে বাংলাবাজার হয়ে বদরখালী বাজার পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর তীর ঘেঁষে অন্তত ১২ কিলোমিটার সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া কিছুদূর পর পর বড় বড় খানা-খন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে যাত্রী-সাধারণের। যানবাহন চালক ও যাত্রী-সাধারণকে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কোনাখালী ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এবং বাংলাবাজার এলাকার পশ্চিমে সড়কের অর্ধেকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায়। ওই দুই স্থানে সড়ক একেবারে সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন কম করে হলেও চার শতাধিক যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গা থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন।

কোনাখালী ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার বাসিন্দা মমতাজ আহমদ, আরমান সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি মূলত মাতামুহুরী নদীর তীর তথা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ। ২০০৪ সাল থেকে এই বাঁধকে সড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বাঁধের উপর পিচ ঢালাই দেয়। তখন থেকেই ব্যাপকভাবে যানবাহন চলাচল শুরু হয় এবং বিকল্প সড়ক হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে সড়কটি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাতামুহুরী নদীর দুই তীরের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে দোকানপাট ও মাছের ঘের নির্মাণ করায় নদীতে পানির প্রবাহ বাধার মুখে পড়ে। এতে একদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি এবং অপরদিকে সামুদ্রিক অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির তোড়ে সড়কটি বার বার ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।  

চকরিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে প্রথম দফায় সড়কটিতে পিচ ঢালাই দেওয়া হলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এর পর দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালেও দেওয়া হয় পিচ ঢালাই। কিন্তু বিগত দুই বছরের একাধিক ভয়াবহ বন্যা এবং সামুদ্রিক অস্বাভাবিক জোয়ারের কবলে পড়ে সড়কটি। অনেক স্থান বিলীন হয়ে যায় নদীতে।

কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনাখালীর বাঘগুজারা-বদরখালী সড়কটি আমার ইউনিয়নের রক্ষাকবচ। এটি বর্তমানে সড়ক হলেও একসময় ছিল নদীর বাঁধ। বিকল্প চলাচলের সুবিধার্থে এটিকে সড়ক হিসেবে রূপান্তর করে এলজিইডি। কিন্তু প্রতিবছর ভয়াবহ বন্যা এবং সামুদ্রিক অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে পড়ে নদীতে বিলীন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সড়ক দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ঘটছে নানা দুর্ঘটনাও।  

চেয়ারম্যান বলেন, সড়কটিকে টেকসই করতে ইতোমধ্যে একাধিকবার পরিদর্শন করে গেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির কর্মকর্তারা। কিন্তু কাজ শুরু না হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে।

চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিন উল্লাহ বলেন, একের পর এক বন্যায় ক্ষতবিক্ষত সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণের জন্য একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়। এর পর বাঘগুজারা থেকে বদরখালী পর্যন্ত সড়কটির প্রস্তাবনা প্রেরণ করার পর নির্দেশনা মোতাবেক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু করা হবে। ’

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, মাতামুহুরী নদীর তীরের সড়কটি যাতে টেকসই থাকে সেজন্য সড়কের নদীতীরের অংশে জিও ব্যাগ দিয়ে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য