kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঈদ ঘিরে র‌্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা বলয়

এস এম রানা   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদ ঘিরে র‌্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা বলয়

কোরবানির ঈদ ঘিরে ‘চামড়া সন্ত্রাস’ ও পাচার ঠেকানো এবং ঈদজামাত, বিনোদনকেন্দ্র ও বাসা-বাড়ির নিরাপত্তায় চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বাড়তি সদস্য আনা হয়েছে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং ঢাকার শিল্পপুলিশ থেকেও।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ অতিরিক্ত দুই হাজার ১৭৮ জন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ দুই হাজার ৯০০ এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭) ৪০০ সদস্য নিয়ে মাঠ থাকছে। সেই হিসাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ৫৬০০ সদস্যের নিরাপত্তা বলয় থাকছে। তবে এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে কোরবানি পশুর ‘চামড়া সন্ত্রাস’ ও সীমান্তমুখী পাচার ঠেকানো। এ জন্য নগর পুলিশ ৪০০ সদস্য মোতায়েন করেছে। ‘চামড়া সন্ত্রাস’ ঠেকাতে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব ফোর্স বাড়িয়েছে।

এছাড়া নগরীর আটটি এবং জেলার ১৬ থানায় ২৪১টি পশুর হাটের নিরাপত্তা, ঈদজামাত, বাসাবাড়ি ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যা অতীতের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি ঈদের সময় বাসাবাড়ির নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করতে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে।

‘চামড়া সন্ত্রাসীদের’ ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চামড়া পরিবহন থেকে আড়তে পৌঁছানো পর্যন্ত পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেবে পুলিশ। এ লক্ষ্যে বাড়তি ৪০০ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ’

দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কোনো দলীয় পরিচয়ের সন্ত্রাসীর তথ্য নেই। সন্ত্রাসীর পরিচয় সন্ত্রাসীই। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

পুলিশ কমিশনার জানান, প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড এবং গলিভিত্তিক পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অলি-গলিতে পুলিশ থাকবে। কেউ চামড়া নিয়ে সন্ত্রাসী করছে, জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিচ্ছে কিংবা কম টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য করছে এমন অভিযোগ ফেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নগরবাসীকে শুধু পুলিশকে ফোনে অভিযোগ করলেই চলবে।

তিনি বলেন, ‘চামড়া সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নগরবাসীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সব থানায় টেলিফোন নম্বরে যেকোনো নাগরিক ফোনে অভিযোগ দিতে পারবেন। প্রয়োজনে পরিচয় গোপন রেখে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে পুলিশ। ’

পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭) ঈদের নিরাপত্তায় প্রস্তুতি নিয়েছে। চামড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জালনোট প্রতিরোধে চট্টগ্রামে ৪০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের সময় চামড়া কিংবা পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে র‌্যাব মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপালন করবে। ’ দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাস হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের কৌশলে আইনের আওতায় আনে না এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, এটাই চূড়ান্ত কথা। ’

নগর পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট, বাস ও রেলস্টেশন, ঈদ জামায়াত, চামড়া ব্যবসা ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২২০০। এছাড়া পশুর হাটের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্য ছাড়াও জালনোট প্রতিরোধে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ১০টি পশুর হাটে ৩০টি জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকও বেশকিছু মেশিন নিয়ে ক্রেতাবিক্রেতাদের সেবা দেবে। পশুর হাটের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কেউ যাতে জোরপূর্বক গরুর বাজারে গরু নিতে বাধ্য করা কিংবা না নিতে বাধ্য করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ রেজাউল মাসুদ কালের কণ্ঠকে জানান, জেলার ১৬ থানা এলাকায় ২৪১টি পশুর হাট, ঈদজামাত, বিনোদনকেন্দ্র এবং যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। এ লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও ঢাকার শিল্পপুলিশের কাছ থেকে বাড়তি ফোর্স আনা হয়েছে চট্টগ্রামে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের থানা, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্বরত থাকবেন। এর বাইরে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে দুই হাজার ৯০০ জন।

তিনি বলেন, ‘পুরো জেলায় বাড়তি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যটন এলাকা আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর কক্সবাজার-বান্দরবানগামী পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের বিষয়েও পুলিশ লক্ষ্য রাখবে। ’


মন্তব্য