kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বদলে যাবে বাকলিয়া

আসিফ সিদ্দিকী   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বদলে যাবে বাকলিয়া

আগ্রাবাদ এক্সেস রোড পাল্টে দিয়েছে পুরো হালিশহর। এবার ‘বাকলিয়া এক্সেস রোড’ আসছে বৃহত্তর বাকলিয়াকে পাল্টে দিতে।

প্রকল্পটি গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে।

দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০ ফুট চওড়া ওই সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আর বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চট্টগাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ঘিরে হালিশহরে হয়েছে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন। গড়ে ওঠেছে মূল শহরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা। আর জমির দাম বেড়েছে শতভাগ।

বাকলিয়া এক্সেস রোড বাস্তবায়িত হলে বাকলিয়াবাসী ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য বান্দরবানের মানুষ এই সড়ক দিয়ে যানজট এড়িয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম শহরে ঢুকতে পারবে। এতে তাঁদের বিপুল সময় সাশ্রয়ও হবে।

কীভাবে উপকৃত হবে এসব এলাকার মানুষ?-জানতে চাইলে বাকলিয়ার অধিবাসী ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড ও ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছয় লাখ বাকলিয়াবাসীর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও আনন্দের খবর এই নতুন সড়ক। শহরের মধ্যে বাস করেও আমরা শহর থেকে অনেক দূরে যেন গ্রামেই বসবাস করে আসছি। শিক্ষা, মেডিক্যাল ও উন্নত জীবনযাপন থেকে অনেক পিছিয়ে আছেন এখানকার বাসিন্দারা। ’

সড়কটি বৃহত্তর বাকলিয়াকে আমূল পাল্টে দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ এখনো বুঝে উঠতে পারবে না কী বিশাল সুদিন অপেক্ষা করছে আমাদের সামনে!’

সৈয়দ সগীর জানান, ওই এক্সেস সড়ক ঘিরে বাকলিয়ায় গড়ে ওঠবে সরকারি-বেসরকারি বিশাল আবাসিক এলাকা। ছোট শিল্প কারখানা গড়ে ওঠে পাল্টে যাবে এলাকা। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখবেন এখানকার অধিবাসীরা। পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও এটি বড় আশীর্বাদ হয়ে ওঠবে সড়কটি।

জানা গেছে, বাকলিয়া এলাকাকে শহরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং কর্ণফুলী সেতু দিয়ে আসা লোকজনকে দ্রুত শহরে প্রবেশ নিশ্চিত করতে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে এই ‘বাকলিয়া এক্সেস রোড প্রকল্প’ যুক্ত করা হয়। গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০০৯ সালে সড়কটি বাস্তবায়নে ডিপিপি (বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করা হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় একাধিক ফ্লাইওভার ও সড়ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এমনকি সেই প্রকল্পকে পাশ কাটিয়ে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বাকলিয়া এক্সেস রোডের পাশেই ডিসি রোডের সম্প্রসারণে নতুন প্রকল্প তৈরি করে একনেকে পাস করিয়ে আনেন। সেটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়নও হয়েছে। কিন্তু বাকলিয়া এক্সেস রোড অনুমোদন পায়নি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জোর তদবির চালিয়ে গত ৩ জুন প্রি একনেক মিটিংয়ে অনুমোদন করিয়ে নেন প্রকল্পটি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০ ফুট চওড়া সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের সময় ২০১৯ সালের জুন।

দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে এত বেশি ব্যয়ের কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে ভূমি অধিগ্রহণেই ১৮০ কোটি টাকার মতো খরচ হবে। বাকলিয়া এলাকার মৌজা দরের দেড়গুণ বেশি দামেই জমিগুলো কেনা হবে। তবে জমি অধিগ্রহণ সিডিএ করবে বিধায় এতে বেশি সময় লাগবে না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানে এই প্রকল্প থাকার পর থেকে আমরা কাউকে নতুন ভবন নির্মাণের অনুমতি দিইনি। ফলে সেদিক থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাড়তি সময় লাগবে না। ’

পিছিয়ে থাকা বাকলিয়াবাসীর ভাগ্য চাকা বদলে দিতে এটি বড় সুযোগ উল্লেখ করে আবদুচ ছালাম বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য বান্দরবানের মানুষ বহদ্দারহাটের বদলে নতুন ওই সড়ক দিয়ে অনেক কম সময়ে সরাসরি শহরে প্রবেশ করতে পারবেন। ’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাকলিয়া এক্সেস রোড নগরীর সিরাজউদ্দৌল্লা সড়কের চন্দনপুরা মসজিদের বিপরীত পাশে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পুকুরের পাড় ঘেেঁষ ডিসি রোডের সাথে মিলিত হবে। ডিসি রোড থেকে বর্তমানে খালি পড়ে থাকা জায়গার উপর দিয়ে সোজা চলে যাবে শান্তিনগর মোড়ে। সেখানে একটি জংশন হবে। ওই জংশন থেকে ৬০ ফুট চওড়া বাকলিয়া এক্সেস রোড একটু উত্তর-পশ্চিম কোণে বেঁকে বগার বিল, সৈয়দশাহ রোড অতিক্রম করে বাকলিয়া থানার পাশ দিয়ে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের সাথে মিলিত হবে।

জানা গেছে, সেই জংশন থেকে একটি সড়ক যাবে উত্তর দিকে এবং অপরটি দক্ষিণ দিকে। আর উত্তর দিকের সড়ক শান্তিনগর থেকে বগার বিল হয়ে ওমর আলী মাতব্বর সড়ক অতিক্রম করে এক কিলোমিটারের কাছে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কে মিলিত হবে। দক্ষিণ দিকের সড়কটি পশ্চিম বাকলিয়া হয়ে কালামিয়া বাজারের পাশ দিয়ে বহদ্দারহাট-কর্ণফুলী সেতু সংযোগ সড়কে মিলবে। তবে এই দুটি সড়ক বর্তমান প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত নয়। এ জন্য পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।


মন্তব্য