kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সন্ত্রাসীদের আনাগোনা চরণদ্বীপে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বোয়ালখালীর চরণদ্বীপে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। সন্ধ্যা হলেই ভেসে আসে গুলির শব্দ। চলছে বালুর মহাল দখল করে ব্যবসা। প্রবাসীদের কাছ থেকেও দাবি করা হয় চাঁদা। না দিলে ওই পরিবার নানা হয়রানির শিকার হয়। এলাকায় নতুন দালান নির্মাণকাজ শুরু করার আগেই সন্ত্রাসীদের কাছে পৌছে দিতে হয় চাঁদা।

এসব সন্ত্রাসীর কবল থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে সমপ্রতি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, চরণদ্বীপে সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। এসব সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে রয়েছেন মাহবুবুল আলাম প্রকাশ মালম। তাঁর নামে ওই সন্ত্রাসীরা ‘মালম বাহিনী’ নামে পরিচিত। এদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। এলাকার প্রবাসী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও এদের কবল থেকে রেহাই পায় না। গ্রামে কোনো নতুন ভবন নির্মাণ করতে হলে চাঁদা দিতে হয়। এদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ ‘টু শব্দ’ করার সাহস পান না। ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তিনি একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তাঁকে ঘিরে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় বোয়ালখালী থানা পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চিরুণী অভিযানও চালানো হয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে।

‘মালম বাহিনী’ প্রসঙ্গে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবে না। এদের ধরা হবেই। ’ তিনি জানান, মালুমের বিরুদ্ধে বোয়ালখালী থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করলেও পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী কালের কণ্ঠকে বলেন, সমপ্রতি চরণদ্বীপে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। সন্ধ্যা হলেই কানে ভেসে আসে গুলির শব্দ। এলাকাবাসীর রাত কাটে চরম আতঙ্কে। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবারগুলো সন্ত্রাসীদের কথামতো চাঁদা না দিলে নানা হয়রানির শিকার হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে মফতল হোসেন খলিফা অপহরণের মধ্য দিয়ে বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নে সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই জনপদে ১৯৭৪ সালে আনোয়ার বাহিনী, ১৯৮৬ সালে আজগর বাহিনী, ১৯৮৮ সালে ফরিদ বাহিনী, ১৯৯৬ সালে সৈয়দ নুর বাহিনী, ২০০০ সালে এমদাদ বাহিনী এবং ২০০৪ সালে বদি বাহিনীর নামে সন্ত্রাসী বাহিনীর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ঘটতে থাকে একের পর এক অপরাধ।

২০০৪ সালের শেষ দিকে বদি বাহিনীর প্রধান বদিউল আলম র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলে পরের বছর চরণদ্বীপে সন্ত্রাসী মালুমের উত্থান হয়। গত দুই দশকে চরণদ্বীপে অর্ধডজন খুনের ঘটনা ঘটেছে। মালুম এক সময় প্রবাসে ছিলেন। বিদেশ থেকে এসে অন্ধকার জগতের হাল ধরে গড়ে তুলেন সন্ত্রাসী বাহিনী। চাঁদাবাজি, জমি দখল-বেদখল, বালু মহাল নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। ’


মন্তব্য