kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তিন উপজেলায় লক্ষাধিক গরু মোটাতাজাকরণ

জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তিন উপজেলায় লক্ষাধিক গরু মোটাতাজাকরণ

গরুটি মোটাতাজা করেছেন সাতকানিয়ার চরতির সুইপুরা গ্রামের মাহামুদুল হক। এটি তিন লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে চান তিনি। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে বিভিন্ন জাতের লক্ষাধিক গরু মোটাতাজা করা হয়েছে।

কেউ শখ করে, আবার কেউ বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজা করেছেন।

আর বেশির ভাগ কৃষকও ঈদের জন্য ২-৩টি করে গরু মোটাতাজা করেছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা। বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত সময়ে গরুর যত্ন নিতে এবং চুরি ঠেকাতে অনেকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে কার গরু কত বড় হয়েছে, কোনটি কত বেশি মোটাতাজা হয়েছে এবং কোনটি কত টাকায় বিক্রি করা যাবে-এসব বিষয়ে চলছে আলোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে এমন গরুও রয়েছে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে। গ্রামীণ হাট-বাজারে গরু বিক্রি এখনো জমে ওঠেনি। তবে পাড়া-মহল্লায় গরু কেনাবেচা চলছে পুরোদমে। অনেকে গৃহস্থের কাছে গরুর মূল্য নির্ধারণ করে অগ্রিম দিয়ে রেখে দিচ্ছেন। আবার পাইকার বিক্রেতারাও পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বড় ও মোটাতাজা গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গরু মোটাতাজাকারী এবং পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এবার গরুর দাম অন্য বছরের তুলনায় একটু বেশি। ফলে পশু পালনকারীরা অধিক লাভের আশায় বুক বাঁধছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সোলতান মাহামুদ আকন্দ কালের কণ্ঠকে জানান, এবার সাতকানিয়ায় প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। উপজেলার চরতি, আমিলাইষ, ছদাহা, খাগরিয়া, মাদার্শা ইউনিয়নের প্রায় ঘরে ঘরে গরু মোটাতাজাকরণ হয়েছে। অনেকে শখ করে ৪-৫টি করে দেখতে সুন্দর ও বড় আকৃতির গরু মোটাতাজা করেছেন। এছাড়া কৃষকরাও ঘরে ঘরে গরু লালন-পালন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘হাট-বাজারে গরু বিক্রি এখনো জমে না ওঠলেও পাড়ায়-মহল্লায় বিকিকিনি শুরু হয়েছে। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী গ্রাম থেকে গরু সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে যাচ্ছেন। ’

লোহাগাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, লোহাগাড়ায় অন্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক এবং খামার মালিকরা কোরবানির ঈদ লক্ষ্য করে ৩-৪ মাস আগে থেকে গরু সংগ্রহ করে মোটাতাজা করেছেন। অনেকে শখ করেও গরুপালন করেছে। এসব গরু বিক্রি করে তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে ভালো দিক হলো এখানকার লোকজন গরু মোটাতাজাকরণে তেমন কোনো কৃত্রিম খাবার দেন না।

চন্দনাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রমতে, চন্দনাইশে এ বছর বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩৪ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। বিশেষ করে হাশিমপুর, সাতবাড়িয়া ও দোহাজারী এলাকায় প্রায় ঘরে ঘরে গরু মোটাতাজা করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশীয় জাত ছাড়াও নেপালি, হারিয়ানা, সিংদির সাথে দেশীয় গরুর ক্রস ব্রেক, শাহীয়ালের সাথে দেশীয় জাতের ক্রস ব্রেক, রেড চিটাগাং ক্যাটেলসহ বিভিন্ন জাতের গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। গ্রামীণ হাট-বাজারে দেশীয় জাতের মধ্যম আকৃতির দেখতে সুন্দর গরুর চাহিদা বেশি। দাম একটু চড়া হলেও কোরবানির গরু হিসেবে সবার নজর থাকে সুন্দর গরুর দিকে।

সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের সবচেয়ে বড় গরুর বাজার কেরানীহাটের ইজারাদার ও কেঁওচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনির আহমদ জানান, গরুর বাজার এখনো জমে ওঠেনি। তবে পাড়ায়-মহল্লায় কিছু গরু বিক্রি হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে পাইকারি বিক্রেতারা গ্রামের গৃহস্থের কাছ থেকে গরু কিনে শহরে নিয়ে যাচ্ছেন।

আবুল বশর, আবদুল জলিলসহ কয়েকজন পাইকারি বিক্রেতা বলেন, বাজারে এখন গরুর দাম ভালো রয়েছে। এখনকার বাজার দারের কথা মাথায় রেখে আমরা গ্রাম থেকে গরু কিনে শহরে নিয়ে যাচ্ছি। বাইরের গরু না আসলে লাভ হবে। অন্যথায় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

সাতকানিয়া পৌরসভার ছিটুয়াপাড়ার খামার মালিক আবদুল মান্নান জানান, তিনি এ বছর ছোট বড় মিলে ১৬টি গরু মোটাতাজা করেছেন। কোনো গরু এখনো বাজারে নেননি তিনি। খামারেই ছোট আকৃতির পাঁচটি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন গরুগুলো কিনে নিয়েছেন। তাঁর খামারে আরো ১০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরুটির দাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠেছে। ৩ লাখ টাকা পেলে বিক্রি করে দেবেন। না হলে হাটে নিয়ে বিক্রি করবেন।

চরতি ইউনিয়নের সুইপুরা গ্রামের মাহামুদুল হক বাবুল জানান, তিনি ১০টি গরু মোটাতাজা করেছেন। এর মধ্যে বড়টি ৩ লাখ টাকার অধিক বিক্রি করা যাবে বলে তাঁর আশা।

জনার কেঁওচিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, তিনি প্রতিবছর শখ করে একটি করে গরু মোটাতাজা করেন। এবারও প্রায় ৭ মাস আগে ছদাহা এলাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনে মোটাতাজা করেছেন। সেটি বাজারে এখন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম ওঠেছে। তিনি আশা করছেন, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় গরুটি বিক্রি করা যাবে।


মন্তব্য