kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গরু নিয়ে অপেক্ষা দেখা নেই ক্রেতার

শিমুল নজরুল   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গরু নিয়ে অপেক্ষা দেখা নেই ক্রেতার

সাগরিকা হাটে বিক্রির জন্য কুষ্টিয়া থেকে আনা গরুটি মারা গেছে গত রবিবার রাতে। কিন্তু গতকাল বিকেল পর্যন্ত সরানো হয়নি এটি। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাগরিকায় কুষ্টিয়া থেকে ২২টি গরু নিয়ে এসেছেন রফিক ও তাঁর পাঁচ সহযোগী। গত তিনদিনে একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি তাঁরা।

শুধু রফিক বেপারি নন, তাঁর মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের আবদুল মজিদ, রাজশাহীর গফুর শেখ বেপারি ও সাতকানিয়ার আবদুর রহিমের অবস্থা একই। তাঁরাও গরু নিয়ে বিক্রির অপেক্ষায় আছেন দুদিন ধরে।

গরু বেপারিরা জানান, প্রতিদিন নগরীর পশুর হাটগুলোতে কোরবানির গরুর চালান আসা অব্যাহত থাকলেও বিকিকিনি এখনো জমে ওঠেনি।

চুয়াডাঙা থেকে আলী আকবর বেপারি ১৫টি গরু নিয়ে গত রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম এসেছেন। ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে তাঁর একেকটি গরুর দাম। গত দুই দিনে অপেক্ষকৃত ছোট দুটি গরু বিক্রি হয়েছে তাঁর।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বাবু শেখ প্রতিবছরের মতো এবারও ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, গরু পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং পথে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের নীরব চাঁদাবাজির কারণে এ বছর চট্টগ্রামে গরু আনতে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। কুষ্টিয়া থেকে এক ট্রাক গরু চট্টগ্রামে আনতে ভাড়া পড়ছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।

সাগরিকা গরুর হাটের উত্তর প্রান্তজুড়ে রয়েছে কুষ্টিয়া থেকে আনা বিশাল আকারের গরুর সমাহার। আকার ও রংয়ের বৈচিত্র্যের কারণে এসব গরু ক্রেতাদের সহজে আকৃষ্ট করছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে সাগরিকা হাট ঘুরে দেখা গেছে, গরুর সমাগম বেশি হলেও ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও বড় আকারের দেশি গরু আনা হয়েছে এখানে।

সাগরিকা মোড়েই বসা কুষ্টিয়ার বড় গরুর লাইনে যাওয়ার প্রবেশমুখে পড়ে আছে মরা গরু। স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার রাতে গরুটি মারা গেছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত মরা গরুটি সরিয়ে ফেলেনি সিটি করপোরেশন কিংবা হাটের ইজারাদার। একই অবস্থা সাগরিকা শিল্পাঞ্চলের ভেতরে। সেখানেও হাটের ভেতর কয়েকটি গরু মরে পড়ে আছে। মরা গরুটি ধরে শিশুরা খেলা করছে।

সাতকানিয়ার গরু বেপারি আবদুর রহিম জানান, সাতকানিয়ারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের গরুর বিশেষ কদর রয়েছে। বিশেষ করে লাল জাতের ষাঁড়ের ক্রেতা বেশি। তবে চট্টগ্রামের হাটগুলোতে এখনো বিকিকিনি শুরু হয়নি। হাট জমতে আরো দুই/একদিন লাগবে।

এদিকে হাটে আগত ক্রেতারা জানান, গবাদি পশুর দাম ধরে রেখেছেন বিক্রেতারা। হয়তো দুই/এক দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে। কারণ হাটে অনেক গরু এসেছে।

সাগরিকা গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমিতির অফিস সেক্রেটারি কাজী আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের কারণে গরুবাহী ট্রাক রাস্তায় আটকে আছে। গরু বোঝাই ট্রাক উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুদিন। ’


মন্তব্য