kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


২৮ টাকার আদা ১১৫ রসুন ও পেঁয়াজের দামে স্বস্তি

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার

আসিফ সিদ্দিকী   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২৮ টাকার আদা ১১৫ রসুন ও পেঁয়াজের দামে স্বস্তি

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ২৮ টাকার আদা এখন ১১৫! তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে আদার দাম বেড়েছে ৮৭ টাকা। গত বৃহস্পতিবার যে আদা ৬২ টাকায় বিক্রি হয়, তা গতকাল সোমবার বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকায়।

অর্থাৎ দুই দিনে বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা। সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

এদিকে আদার দামে ঝাঁজ থাকলেও এবার কোরবানি ঈদ ঘিরে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম এখনো বাড়েনি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ওই দুটি ভোগ্যপণ্য।

আদার দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী সোনালী ট্রেডার্সের কর্ণধার আবসার উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত আট মাস ধরে ব্যবসায়ীরা কেনা দামের চেয়ে অনেক কমে আদা বিক্রি করতে গিয়ে পুঁজি হারিয়েছেন। তাঁদের কেউ এই ঈদে আদা আমদানি করেননি। এখন এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। সৃষ্টি হয়েছে সরবরাহ সংকট। ’

আড়তদাররা জানান, প্রতিবছর কোরবানি ঈদ ঘিরে ১০ দিন আগে থেকেই আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়। গত কোরবানি ঈদেও পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা ছুঁয়ে যায়। এতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন ক্রেতারা। এবার ভারতের পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য না বেড়ে উল্টো কমানো হয়েছে। ফলে প্রচুর পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম বাড়েনি। অনুরূপভাবে রসুনের সরবরাহও ভালো থাকায় দাম চড়া হয়নি। খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৯ থেকে ২০ টাকায় এবং রসুন ১৬০ টাকায়। গতকাল সোমবার রসুনের দাম ১০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা হলেও পেঁয়াজ আগের দামই বিক্রি হয়।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে একটু একটু করে বাড়লেও গত দুই দিনের ব্যবধানে ৬০ টাকার আদা কেজি ১১৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আদা নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে বিকল হওয়ার ঘটনা বাজারে প্রচার হওয়ায় হঠাৎ করে দাম বেড়ে যায়। তবে আশা করছি, মঙ্গলবার থেকে দাম কমা শুরু হবে। কারণ সেই সংকট এখন আর নেই। ’

জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে চীনা আদা। এর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকেও আদা আমদানি হয়। ইন্দোনেশিয়ার আদা খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে কেজি ১১০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ৬৩ টাকা।

খাতুনগঞ্জের তোহা এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার সাব্বির আহমদ বলেন, ‘বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ এতো বেশি যে, লাভের বদলে উল্টো কমদামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ১৯ থেকে ২০ টাকা দরে। অথচ ভারত থেকে বাজারে আসতে একই পরিমাণ খরচ পড়ছে। ’

উল্লেখ্য, গত বছর এই সময়ে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা  ছাড়িয়েছিল। ভারত সরকার পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি করায় বাজারে সরবরাহ সংকটে দাম চড়াও হয়ে রেকর্ড গড়েছিল।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতে খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি চীনা রসুন বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। এর পর ছয় মাসে দফায় দফায় বেড়ে গত জুনে পণ্যটি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। জুলাইয়ে দাম কিছুটা কমে ১৩০ থেকে ১৩২ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু আগস্ট মাসের শুরুতে রসুনের দাম আবার বেড়ে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা পর্যন্ত হয়। গতকাল বুধবার পাইকারি বাজারে চীনা রসুনের দাম মানভেদে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা কমে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়।


মন্তব্য