kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বৈরি আবহাওয়া

মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি কমে গেছে

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কোরবানির ঈদ ঘিরে মিয়ানমার থেকে এবার পশু আমদানি কমে গেছে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে ওই দেশ থেকে গবাদি পশু আনা হয়।

প্রতিবছর কোরবানির আগে শাহপরীর দ্বীপের জেটির করিডর সংলগ্ন এলাকায় বসে পশুর বিশাল হাট। কিন্তু এবার সেই বাজারে তেমন রমরমা অবস্থা নেই।

মিয়ানমার থেকে পশু আমদানিতে জড়িত টেকনাফের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, গত কিছুদিন ধরে একটানা বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। মূলত এ কারণে  মিয়ানমার থেকে নাফ নদীর উত্থাল ঢেউ পাড়ি দিয়ে পশুর আমদানি কমে গেছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় মিয়ানমারে পশুর দাম একটু বেশি পড়ছে। বাংলাদেশেও এবার প্রচুরসংখ্যক পশুর মজুত থাকায় দেশের নানা প্রান্তের ক্রেতারা মিয়ানমারের পশু নিতে টেকনাফে কম আসছেন। ’

তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে তিনি পশু আমদানি করেছেন ৮৯২টি। অথচ গেল বছর ওই সময়ে এ সংখ্যা আরো বেশি ছিল।

মিয়ানমার থেকে এবার গবাদি পশুর আমদানি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে শাহপরীর দ্বীপের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, টেকনাফের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের পশুর টাকা অনাদায়ী রেখেছিলেন। ফলে এপার-ওপারের ব্যবসায়িক লেনদেনে অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। এ কারণে বেশ কিছুদিন পশুর চালান এপারে আসাও বন্ধ ছিল। তবে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেই ভুল বোঝাবুঝির সম্মানজনক মীমাংসা হয়েছে।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা আবদুস সালাম মেম্বার জানান, এবার পশুর আমদানি কম হওয়ায় সঙ্গত কারণে দামও একটু বাড়তি রয়েছে। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পশুর চালান ব্যাপকভাবে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

টেকনাফের শুল্ক বিভাগের সুপার আবদুল মান্নান গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, মিয়ানমার থেকে করিডর দিয়ে আসা প্রতিটি

গরু-মহিষের জন্য ৫০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ২০০ টাকা করে রাজস্ব আদায় করা হয়। গেল মাসে

শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা ২ হাজার ৫৪৭টি পশু বাবদ ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। আর গত বছরের আগস্ট মাসে করিডর দিয়ে পশু আনা হয়েছিল ৩ হাজার ৫৪টি। তবে তিনি জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পশুর আমদানি বাড়তে পারে।


মন্তব্য