kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শপথ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শপথ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

গতকাল নগরীতে ‘জঙ্গিবাদ রুখবেই তারুণ্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এতে ৩৩ কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা অংশ নেন (উপরে)। কক্সবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী শপথ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা (নিচে বামে)। বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবিরোধী সভা। ছবি : কালের কণ্ঠ

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শপথ নিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার তাঁরা ওই শপথ নেন।

এ উপলক্ষে

সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর :

চট্টগ্রাম : নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জঙ্গিবাদ রুখবেই তারুণ্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এতে সহযোগিতা করেছে সিটি করপোরেশন। নগরীর ৩৩ কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী এবং শতাধিক শিক্ষক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জঙ্গিবাদ দমন করতে উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নুর তুষার। আরো বক্তব্য দেন সাবেক জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা প্রমুখ।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জঙ্গিবাদ সৃষ্টির পেছনে সমাজের পাশাপাশি বর্তমান রাজনীতিরও চরম ব্যর্থতা আছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘মূল্যবোধ উধাও হওয়ার কারণে আমরা এখন যন্ত্রে পরিণত হয়েছি। কোনো কিছু আর জানছি না, শিখছি না শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি। ’

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের মহান নায়ক সম্পর্কে জানতে হবে। এসব জানলেই আমাদের কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবে না। ’

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বারবার হুমকির সম্মুখীন হয়েছে মন্তব্য করে ডা. আবদুন নুর তুষার বলেন, ‘আমরা এমন শিক্ষাব্যবস্থা চালু হতে দিয়েছি যেখানে একই সঙ্গে তরুণরা বিদেশি ভাষা শেখে, আরবি শেখে কিন্তু ইসলাম শেখে না। ’

তিনি আরো বলেন, ‘জঙ্গিরা ইসলামের কথা বলতে পারে, কিন্তু ওরা ইসলামের অনুসারী নয়। কারণ তারা মানুষের ওপর ধর্মকে চাপিয়ে দিয়ে নিজস্ব উদ্দেশ্যে হাসিল করতে চায়। এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতা, অর্থ-প্রতিপত্তি। গায়ের জোরে মানুষের ওপর নিজেদের প্রভুত্ব কায়েম করা। ’

জঙ্গিদের মরদেহ পরিবারও নিচ্ছে না উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘তাদের মরদেহ মর্গে পড়ে আছে। মানুষ তাদের জানাজায়ও অংশ নেয় না। এমনকি তাদের মরদেহ কুকুরও খাবে না। কুকুর খেতে গিয়ে বলবে, জঙ্গি গন্ধ আছে। ’

জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে, হঠাৎ কারো মধ্যে পরিবর্তন দেখলে আমাদের খবর দেবে, আমরা তাকে ‘সাইজ’ করে দেব। ’’ তিনি সবাইকে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দূর না হলে আমরা একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে পারব না, কোথাও যেতে পারব না। ’

বেগম মুশতারি শফি বলেন, ‘যারা কখনো চায়নি দেশটা স্বাধীন হোক, তারা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা মানুষ না, মানুষের নামে এসব কুকর্ম করে যাচ্ছে। ’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ এর চাপে ক্লান্ত করে ফেলা হচ্ছে। তাই ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা ভেতরে ভেতরে বিদ্রোহী হয়ে ওঠছে। এর পর মেধাবী শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে। ’

তিনি বলেন, ‘অভিভাবকরা সবাই এ প্লাস-এর ফেরিওয়ালা হয়ে গেছে। দয়া করে সন্তানকে টাকা বানানোর মেশিন বানাবেন না। ’

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি : জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী সচেতনতামূলক সভা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারীর সভাপতিত্বে বিজিসি বিদ্যানগরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অজিত কুমার দাশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ্ত দেব, রেজিস্ট্রার ইন্চার্জ আ ফ ম আখতারুজ্জামান কায়সার, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের কো-অর্ডিনেটর ড. মো. সরোয়ার উদ্দীন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার সালাহ্উদ্দীন শাহরিয়ার এবং ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে মো. মামুন চৌধুরী, মো. ওসমান গণি, সেলিনা সুলতানা, মাসুমুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ পৃথিবীব্যাপী ক্যান্সাররূপে ছড়িয়ে পড়েছে। এই মরণঘাতি থেকে দেশ, সমাজ ও ধর্মকে বাঁচাতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সভা পুরকৌশল ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ড. মো. হযরত আলী, ড. মো. মাহাবুবুল আলম,

ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী, ড. মোহাম্মদ মশিউল হক, অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী, মো. জামাল উদ্দিন ও অটোল ভৌমিক।

কক্সবাজার : মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও শপথ গ্রহণসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কক্সবাজার সরকারি কলেজ, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ, কক্সবাজার সিটি কলেজ, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বালক ও বালিকা বিদ্যালয়, পৌরসভা উচ্চ বিদ্যালয়, ইলিয়াছ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও বিভিন্ন মাদ্রাসাসহ জেলার আট উপজেলার সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন ও পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশার নেতারা অংশ নেন।

পটিয়া : হুলাইন হযরত এয়াছিন আউলিয়া হামিদিয়া আবেদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য আবু সালেহ চৌধুরী, অভিভাবক সদস্য মেম্বার মোহাম্মদ মুছা ও মাস্টার মো. আবুল কালাম। অধ্যাপক আনোয়ার হোছাইন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন মাওলানা গিয়াসউদ্দিন, মাওলানা আব্দুল মন্নান ফারুকী, মৌলানা সরওয়ার আলম, মাস্টার আলী আকবর, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, মাওলানা আবু তাহের ফয়জী, মাস্টার নুরুল হুদা চৌধুরী, মাওলানা মোহাম্মদ মুছা, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। একজন আদর্শ মুসলমান কখনো জঙ্গি হতে পারে না। ইসলামে জোর জবরদস্তির স্থান নেই। সকল মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ অধিকারের সাথে সাথে ধর্মীয় অধিকারও ভোগ করবে।

সবশেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল মন্নান ফারুকী।

বান্দরবান : জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদবিরোধী ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক। এ ছাড়া কলেজ অধ্যক্ষ স্বপন বণিকের সভাপতিত্বে বান্দরবান সরকারি কলেজ, অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বান্দরবান সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষাঙ্গনকে জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে এক মনোজ্ঞ গীতি নকশা পরিবেশন করে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। অধ্যক্ষ মেজর দিলীপ রায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

অন্যদিকে ডনবস্কো উচ্চ বিদ্যালয়, বালাঘাটা বিলকিছ বেগম উচ্চ বিদ্যালয় ও সাঙ্গু উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলা সদরের বাইরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাটহাজারী : আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী ও দক্ষিণ পাহাড়তলী শাখার উদ্যোগে আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকীর শাহাদাত দিবস পালন এবং ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ইসলামের দর্শন’ শীর্ষক সেমিনার আমান বাজারের একটি কনভেশন সেন্টারে মুহাম্মদ আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনার উদ্বোধন করেন ডা. মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার। প্রবন্ধ পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ কাউছার হামিদ। আরো বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন, হাটহাজারী কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক

মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, মাসিক তরজুমানের সহকারী সম্পাদক আবু নাসের তৈয়ব আলী, সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, চৌধুরী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, তৌফিক উদ্দিন রাসেল  মুহাম্মদ বেলাল, সৈয়দ বয়ান, আবু হানিফ পারভেজ, এস এম সিরাজুল ইসলাম, এস এম ইয়াসিন, রাজিবুল ইসলাম জওশাদ প্রমুখ।


মন্তব্য