kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পশুর হাট গোছানো চলছে জমবে মঙ্গলবার থেকে

শিমুল নজরুল   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পশুর হাট গোছানো চলছে জমবে মঙ্গলবার থেকে

নগরীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাগরিকায় গরু রাখার জন্য পোঁতা হচ্ছে খুঁটি। ছবি : কালের কণ্ঠ

আগামী শুক্রবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে শনিবার থেকে নগরে অস্থায়ী পশুর হাটগুলো বসবে। তবে পুরোদমে পশু বিকিকিনি জমে ওঠবে আগামী মঙ্গলবার থেকে।

এখন চলছে হাট গোছানোর কাজ।

এদিকে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু-ছাগল এসে পৌঁছায়নি এখনো। এসব পশু হাটে আসতে আরো পাঁচদিন লাগবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ বা ১৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।

চট্টগ্রামে গবাদি পশুর বৃহত্তম হাট সাগরিকায় গতকাল বুধবার দুপুরে দেখা গেছে, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি হাটের সংস্কারকাজ করছে। পশু রাখার জন্য শেড তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া সাগরিকা স্থায়ী হাটকে কেন্দ্র করে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁশের খুঁটি পোঁতা হচ্ছে। ওই এলাকার শিল্প-কারখানাগুলোর মাঠেও বসছে বিভিন্ন জেলার বিশেষায়িত হাট।

সাগরিকা গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমিতির অফিস সেক্রেটারি কাজী আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শনি কিংবা রবিবার থেকে চট্টগ্রামে সব স্থায়ী এবং অস্থায়ী হাট পুরোদমে বসতে শুরু করবে। আশা করা যায়, সোমবার থেকে কোরবানির পশুগুলো হাটে আসা শুরু করবে। ’

তিনি জানান, প্রতিবছর কোরবানি ঈদে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বেনাপোল, কুড়িগ্রাম, রৌমারী, লালমনিরহাট, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সাতক্ষীরা থেকে বেশির ভাগ গরু চট্টগ্রামে আসে। এবার এখনো গরুর চালান আসেনি। ভারতীয় গরু আসার বিভিন্ন করিডর বন্ধ থাকায় চালান আসতে পারে কম। চোরাচালান বন্ধে নিরাপত্তাবাহিনী কড়াকড়ি আরোপ করায় মূলত গরুর চালান আসছে না। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহ খানেকের মধ্যে কোরবানির ঈদের গরুর চালান আসতে শুরু করবে।

কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রচুর গরু আসছে। তবে দেশীয় জাতের ছোট গরুর সংখ্যাই বেশি। গরু ব্যবসায়ীদের কাছে ওই সীমান্ত করিডর এখন বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ’

নাটোরের গুরুদাশপুর থেকে বড় আকারে ৮টি গরু নিয়ে সাগরিকা হাটে এসেছেন রঞ্জু বেপারি। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোরবানির পশুর চালান আসতে শুরু করেছে মাত্র। আমরা কয়েকজন মিলে নাটোর থেকে বেশ কয়েকটি গরু এনেছি। আমি এনেছি ৮টি বড় গরু। একেকটি গরু ১৮ থেকে ২০ মণ ওজনের হবে। গত ১০ মাস ধরে গরুগুলো লালন পালন করেছি। এর মধ্যে ছোটটির দাম দিয়েছি সাড়ে তিন লাখ টাকা। আর বড়টির দাম পাঁচ লাখ। আশা করছি, গরুগুলো বিক্রি হয়ে যাবে। ’

তিনি জানান, নাটোর থেকে গত সোমবার সন্ধ্যায় রওনা হয়ে বুধবার সকালে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেন তিনি। রাস্তায় যানজটসহ বিভিন্ন কারণে গরুর গাড়ি চট্টগ্রাম আসতে বেশি সময় লাগছে। এতে ট্রাকে গরু ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।

গরুর ট্রাক নিয়ে আসার সময় পথে চাঁদাবাজি হচ্ছে কি না?-এমন প্রশ্নের জবাবে রঞ্জু বেপারি বলেন, ‘নাটোর থেকে আসার সময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গাড়ি থামানোর জন্য সিগনাল দিলেও চালক দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে আসেন। ’

হাটের নানা প্রান্ত ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত গরু বেপারিরা দল বেঁধে নিজেরাই রান্না করে দুপুর ও রাতের খাবারের আয়োজন করছেন।

নগরে অস্থায়ী সাত হাট : দুটি স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাটের পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাতটি অস্থায়ী হাট ইজারা দিয়েছে। অস্থায়ী হাটগুলো হলো কর্ণফুলী সেতু সংলগ্ন হাট, স্টিলমিল হাট, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন স্কুল মাঠ, সল্টগোলা হাট, পোস্তারপাড় স্কুল মাঠ, কমল মহাজন (পতেঙ্গা) হাট ও হালিশহর বড়পোল বালির মাঠ।


মন্তব্য