kalerkantho


জয় পাওয়া আ. লীগের জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’

জাকির হোসেন, দীঘিনালা   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় পাওয়া আওয়ামী লীগের জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত নির্বাচনে শুধু কবাখালি ছাড়া উপজেলার আর কোনো ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিল না।

আসন্ন নির্বাচনে সব ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়েছে দলটি।

আগামী ২৩ এপ্রিল দীঘিনালার মেরুং, বোয়ালখালী (সদর) ও কবাখালি ইউনয়নে নির্বাচন। বাকি দুই ইউনিয়ন দীঘিনালা ও বাবুছড়া ইউনিয়নে নির্বাচন হবে দুই বছর পর। উচ্চ আদালতে মামলার কারণে ওই দুটি ইউনিয়নে নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পর হয়েছিল গতবারের নির্বাচনও।

যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁরা হলেন মেরুং ইউনিয়নে রহমান কবীর রতন, মোসলেম উদ্দিন, মো. ইছাহাক, শান্তিলোচন দেওয়ান, সুজয় চাকমা ও হেমব্রত চাকমা। বোয়ালখালী ইউনিয়নে নিউটন মহাজন, শান্তিপ্রিয় চাকমা, চয়ন বিকাশ চাকমা, ত্রিদিপ পোমাং ও কল্যাণমিত্র চাকমা। কবাখালি ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর হোসেন, বিশ্বকল্যাণ চাকমা, কমল বিকাশ চাকমা, মানিক রঞ্জন চাকমা, রূপায়ন চাকমা ও প্রীতি তালুকদার। তিন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন। কবাখালি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য দুই ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।

এছাড়া সব ইউনিয়নে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জেএসএস (এম এন লারমা) এবং ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী আছেন।

কবাখালি ইউনিয়ন থেকে এবারও আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গত নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাহাঙ্গীর হোসেন। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিজয়ী না হওয়া দলীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে এবার জাতীয় প্রতীকে নির্বাচন, দেখা যাক কি হয়। ’ 

মেরুং ইউনিয়নে গত নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ মোশাররফ হোসেন। তখন জেএসএস (এম এন লারমা) সমর্থিত প্রার্থী শান্তিলোচন দেওয়ান মাত্র ২০০ ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। এবার ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রহমান কবীর রতন। বিএনপির প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন। নির্বাচনে লড়ছেন শান্তিলোচন দেওয়ানও। বোয়ালখালী সদর ইউনিয়নে গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন জেএসএস (এমএন লারমা) সমর্থিত চয়ন বিকাশ চাকমা কালাধন। এবার কালাধনের সাথে লড়াইয়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিউটন মহাজন। আর বিএনপির প্রার্থী হলেন শান্তিপ্রিয় চাকমা।

দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সাধারণ ভোটাররাও আওয়ামী লীগকে পছন্দ করছে। সব মিলিয়ে প্রতি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিজয়ের সম্ভাবনা দেখছে। ’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মেরুং ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘দীঘিনালা বিএনপির ঘাঁটি। গতবারের মতো এবারও ভোটাররা বিএনপির প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। তবে আসন্ন নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই তাঁরা যেকোনো ভাবে নির্বাচনে জেতার ফন্দি আঁটছেন। ’


মন্তব্য