kalerkantho


লোডশেডিং, মোমবাতি জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এই অবস্থায় আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বেশি বেকায়দায় পড়েছেন।

এদিকে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকারায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। স্থানীয় একটি সংগঠনের ব্যানারে কয়েক শ গ্রাহক হাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে ওই কর্মসূচি পালন করেন।  

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বললেও চকরিয়ায় এর বিপরীত চিত্র। দিনে নিরবচ্ছিন্ন এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ‘সুবেহ-সাদেকের’ মতো ‘এই আসি এই যায়’ অবস্থা বিদ্যুতের। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন গ্রাহক।

গ্রাহকেরা বলেন, বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি আমরা। বিদ্যুৎ মাঝে-মধ্যে আসা যাওয়া করে। কিন্তু অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মোবাইলে যেমন মিসডকল দেওয়া হয়, এর মতোই এখানে চলছে  বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। এতে রবিবার শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের অবস্থা একেবারে শোচনীয়।

লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের কৃষক শাহাব উদ্দিন, কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারার কৃষক গোলাম কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন বোরো মৌসুম। মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানি দিয়ে চলে আমাদের সেচ কার্যক্রম। কিন্তু দিনে এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় পানি সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় পানি না পেয়ে ক্ষেতের ফসল বিবর্ণ হওয়ার সম্মুখীন হয়েছে।

কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চকরিয়া জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, ‘দুদিন আগে প্রচণ্ড ঝড় সাথে তীব্র বেগের ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক স্থানে গাছপালা ভেঙে সংযোগ তার বিচ্ছিন্ন ছিল। এ কারণে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়। ভেঙে পড়া গাছপালা অপসারণ করে সংযোগ তার মেরামত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে। বাকী ইউনিয়নগুলোতেও রবিবারের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে। ’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চকরিয়ার আবাসিক প্রকৌশলী মো. জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘বর্তমানে পিডিবির আওতায় যেসব গ্রাহক রয়েছেন, তাঁদেরকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে পুরোদমে কাজ করছি আমরা। ’


মন্তব্য