kalerkantho


বান্দরবানের ২৬ ভোটকেন্দ্র

নির্বাচনী সরঞ্জাম যাবে সামরিক হেলিকপ্টারে

মনু ইসলাম, বান্দরবান   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



নির্বাচনী সরঞ্জাম যাবে সামরিক হেলিকপ্টারে

এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও পার্বত্য বান্দরবান জেলার ২৬ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও নির্বাচন কর্মকর্তা পাঠাতে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। ভালো যোগাযোগ মাধ্যম গড়ে না ওঠায় এসব দুর্গম এলাকায় ওই ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, এর মধ্যে থানচি উপজেলায় ১৮টি এবং রুমা উপজেলায় ৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোট ৩১ কেন্দ্রে সামরিক হেলিকপ্টার পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় আলীকদম উপজেলার কোনো ইউনিয়নে নির্বাচন না হওয়ায় ওই উপজেলার দুর্গম পাঁচ কেন্দ্রে এ দফায় হেলিকপ্টার পাঠানোর দরকার হচ্ছে না। ’

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হওয়া সত্ত্বেও বান্দরবানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সাথে এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। এর ফলে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা ছাড়া সব ধরনের নির্বাচন, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), পোলিও টিকা খাওয়ানোসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

তৃতীয় দফায় ভোটগ্রহণ কর্মসূচির আওতায় আগামী ২৩ এপ্রিল ৮ ইউনিয়ন ছাড়া বান্দরবানে জেলার সব কটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটার তালিকার ত্রুটির কারণে আলীকদম উপজেলার চার ইউনিয়নের সব কটিতেই নির্বাচন স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি এই উপজেলার দুটি ইউনিয়নকে ভেঙে আরো দুটি ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর সীমানা চিহ্নিত হলেও সংশোধিত ভোটার তালিকায় এলাকা বিভাজন এবং নামের ভুল থাকায় ইসি তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সিডিউল থেকে আলীকদম উপজেলার চার ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করে। অন্যদিকে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ রাখা হয়েছে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের নির্বাচন। এ ছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, সদর ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ না হওয়ায় এবার ওই উপজেলার শুধু বাইশারি ও দোছড়ি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে।

বান্দরবান জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, আলীকদম উপজেলার ভোটার তালিকার ত্রুটিগুলো সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ৬ষ্ঠ অথবা সপ্তম দফার নির্বাচনে এই চার ইউনিয়নে নির্বাচন হতে পারে। একই সময় কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের জন্যে সিডিউলভুক্ত ২৫ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মোট ১০৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সকল ইউনিয়নে দলের প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) ২৫টির মধ্যে ১১টিতে প্রার্থী দিয়েছে। তবে অপর আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) কোনো ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারেনি।

তবে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নিয়ে বিপাকে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী থানচির বলিপাড়া এবং রোয়াংছড়ির তারাছা ইউনিয়নে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুদলেরই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া থানচির রেমাক্রি ও তিন্দু ও রুমার গ্যালেঙ্গ্যায় আওয়ামী লীগ এবং লামার রূপসী পাড়া ও রুমার পাইন্দু ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বান্দরবান সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১৮ জন, থানচি উপজেলার চার ইউনিয়নে ২০, রোয়াংছড়ির চার ইউনিয়নে ১৫, নাইক্ষ্যংছড়ির দুটি ইউনিয়নে ৬, লামার ৭টি ইউনিয়নে ২৮ এবং রুমা উপজেলার চার ইউনিয়নে ১৭ জন প্রার্থী আছেন।


মন্তব্য